বাংলাহান্ট ডেস্ক: চার দিনের নেপাল (Nepal) সফরে গিয়ে বিশেষ সম্মান পেলেন ভারতের (India) সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ (Dhiraj Seth)। সোমবার কাঠমান্ডুতে আয়োজিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল তাঁকে নেপালি সেনার ‘অনারারি জেনারেল’ পদমর্যাদায় ভূষিত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেপালের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাম সহায় প্রসাদ যাদব, বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল, নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব এবং দুই দেশের সেনা ও সরকারের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। ভারত ও নেপালের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই একে অপরের সেনাপ্রধানকে সম্মানসূচক ‘জেনারেল’ পদ দেওয়ার ঐতিহ্য রয়েছে। সেই পুরনো বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতায় এবারও এই সম্মান দেওয়া হল ভারতীয় সেনাপ্রধানকে।
ভারতের সেনাপ্রধান ধীরাজ শেঠ (Dhiraj Seth) নেপালে পেলেন বিরল সম্মান!
তবে জেনারেল শেঠের (Dhiraj Seth) নেপাল সফর এবং এই বিশেষ সম্মানের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে গোর্খা সেনা নিয়োগের বিষয়টি। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পরও গোর্খা রেজিমেন্টকে সেনাবাহিনীতে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একইভাবে ব্রিটেনও তাদের গোর্খা রেজিমেন্ট চালু রাখে। ভারত, নেপাল ও ব্রিটেনের মধ্যে হওয়া ত্রিপাক্ষিক ব্যবস্থার সঙ্গে এই নিয়োগের ঐতিহাসিক যোগ রয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় সেনার সাতটি গোর্খা রেজিমেন্টের ৩৯টি ব্যাটেলিয়নে বিপুল সংখ্যক নেপালি গোর্খা সেনা কর্মরত রয়েছেন। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতেও কয়েক হাজার নেপালি গোর্খা সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে দুই দেশের সেনাবাহিনীর সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের সামরিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
আরও পড়ুন: নিউ মার্কেটের হোটেলে আগুনে ৯ মৃত্যু! অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন, কী বললেন অগ্নিমিত্রা পাল?
তবে গত কয়েক বছরে সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় কিছুটা ছেদ পড়েছে। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ অতিমারির সময় গোর্খা রেজিমেন্টে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। এরপর আর সেই নিয়োগ স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়নি। এর মধ্যে ভারতে চালু হয়েছে ‘অগ্নিবীর’ প্রকল্প। চার বছরের স্বল্পমেয়াদি এই নিয়োগ ব্যবস্থায় নেপালি যুবকদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে সে দেশেও। একাংশের নেপালি তরুণ এই দাবিতে সরব হয়েছেন। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রাক্তন গোর্খা সেনা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের একাংশও। তবে নেপাল সরকারের আপত্তির অন্যতম কারণ এই স্বল্পমেয়াদি নিয়োগ কাঠামো।
নেপালি তরুণদের একাংশের দাবি, ভারতীয় সেনায় গোর্খাদের ঐতিহাসিক ভূমিকা বিবেচনা করে নতুন নিয়োগের পথ আবার খুলে দেওয়া উচিত। অন্যদিকে নেপাল সরকার চায়, গোর্খা সেনা নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থার মতো কোনও কাঠামো থাকুক। কারণ ‘অগ্নিবীর’ ব্যবস্থায় চার বছর পর অধিকাংশ জওয়ানকে সেনা থেকে অবসর নিতে হয়। ফলে নেপালের তরুণদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান এবং অবসর-পরবর্তী সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই মতপার্থক্যের জেরেই নতুন নিয়োগ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনও চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। ফলে গোর্খা রেজিমেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়োগ নিয়ে আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনাপ্রধানের নেপাল সফর এবং নেপালি সেনার তরফে তাঁকে দেওয়া বিশেষ সম্মানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। যদিও এই সফরের সঙ্গে গোর্খা নিয়োগ নিয়ে কোনও নতুন সিদ্ধান্ত সরাসরি ঘোষণা করা হয়নি, তবু দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের উষ্ণতা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নেপালের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং গোর্খা সেনাদের দীর্ঘদিনের অবদান বিবেচনায় ভবিষ্যতে নিয়োগ সংক্রান্ত জট কাটানোর কোনও পথ খোলে কি না, এখন সেটাই দেখার। আপাতত জেনারেল ধীরাজ শেঠের (Dhiraj Seth) এই সম্মান দুই দেশের পুরনো সামরিক বন্ধুত্বেরই প্রতিফলন হয়ে থাকল।













