বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইরান-আমেরিকা সংঘাতের (Iran-US War) আবহে হরমুজ প্রণালীকে (Strait of Hormuz) ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবার এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা হিসেবে দাবি করেছেন। শুধু মন্তব্য করেই থামেননি তিনি, এ সংক্রান্ত একটি মানচিত্রও প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই পদক্ষেপ সামনে আসার পর পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হওয়ায় সেখানে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।
হরমুজকে ‘আমেরিকার ভূখণ্ড’ হিসাবে ঘোষণা করলেন ট্রাম্প (Donald Trump):
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, আমেরিকা ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালীর উপর কার্যত পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নৌ-অবরোধের মাধ্যমে এই জলপথের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ট্রাম্প আরও বলেন, এই জলভাগকে আমেরিকার অধীন বলে ঘোষণা করার বিষয়টি তাঁর কাছে আনন্দের। এর কয়েক দিন আগেও একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার লং আইল্যান্ডে একটি রিপাবলিকান সমাবেশে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণার সম্ভাবনা তিনি বিবেচনা করবেন। ফলে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখার পাশাপাশি এর কূটনৈতিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘রিপোর্ট দেওয়ার বাহানায় সময় নষ্ট’! অভিষেকের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় রেগে আগুন হাইকোর্ট, কার উপর?
অন্যদিকে ওয়াশিংটনের এমন অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করেছে তেহরান। ইরান জানিয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে হওয়া সমঝোতায় যে প্রতিশ্রুতিগুলি রয়েছে, সেগুলি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে না। ইরানের শীর্ষ আলোচনাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সরকারি টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সমঝোতায় উল্লেখ করা মার্কিন প্রতিশ্রুতিগুলি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খোলার প্রশ্নই নেই। অর্থাৎ, হরমুজকে ঘিরে পরিস্থিতি এখন সরাসরি দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।
তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটনের কাছে তাদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের উপর আরোপিত তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করা। ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, গত জুনে দুই দেশের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল, তার অংশ হিসেবেই আমেরিকার তরফে কিছু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই সমঝোতা ভেঙে যাওয়ায় সংঘাত ফের বাড়তে শুরু করে। এখন সেই পুরনো প্রতিশ্রুতিগুলিকেই সামনে রেখে হরমুজ প্রণালী নিয়ে নিজেদের অবস্থান কঠোর করছে তেহরান।

আরও পড়ুন: নিউ মার্কেটের হোটেলে আগুনে ৯ মৃত্যু! অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন, কী বললেন অগ্নিমিত্রা পাল?
হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে ট্রাম্পের (Donald Trump) দাবি, আমেরিকা জলপথটির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ভবিষ্যতে এটিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, নিজেদের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বাণিজ্যিক চলাচল স্বাভাবিক করার পথে তারা হাঁটবে না। ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এখন কূটনৈতিক দর-কষাকষির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা কতটা এগোয়, তার উপরই হরমুজ প্রণালী এবং বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।













