বাংলা হান্ট ডেস্ক : পুরভোটের (Municipality Election) প্রস্তুতি যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন বাধা। কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমে বছরের শেষের দিকে ভোট করার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় ইভিএম কম থাকায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার আদালতের (High Court) সাহায্য চাইল রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
পুরভোট জটে হাইকোর্টের(High Court) দ্বারস্থ নির্বাচন কমিশন
বিধানসভা নির্বাচন শেষ হয়ে গেলেও বেশ কিছু মেশিন এখনও জেলাশাসকদের হেফাজতে রয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, এর মধ্যে এমন অনেক ইভিএম রয়েছে যেগুলি নিয়ে বর্তমানে কোনও মামলা বা আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই সেগুলি আর জেলা প্রশাসনের কাছে আটকে রাখার কারণ নেই। দ্রুত ওই মেশিনগুলি ফেরত পাওয়াই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্যে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করার অনুমতি চাওয়া হয় বুধবার।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে সেই অনুমতি দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে মামলাটি শুনানির জন্য উঠতে পারে। ফলে এখন আদালতের নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে কমিশন। কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভাকে প্রথম দফার ভোটের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে অন্যান্য পুরসভা ও পুরনিগমেও ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু সেই প্রস্তুতির মাঝেই ইভিএমের হিসাব বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কমিশনের আধিকারিকদের মতে, আগের বিধানসভা ভোটের পর বিভিন্ন জেলার কাছে থাকা মেশিনের একটি অংশ এখনও ফেরত আসেনি। নির্বাচনী মামলা বা আদালতের নির্দেশের কারণে কিছু ইভিএম আলাদা করে রাখার প্রয়োজন হতে পারে। কোনও কোনও মেশিন আবার আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে। কিন্তু যেগুলির ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনও বাধা নেই, সেগুলি দ্রুত কমিশনের কাছে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ইভিএম না পাওয়া গেলে নির্বাচনের প্রস্তুতি ধাক্কা খেতে পারে। একাধিক পুর এলাকায় ভোট আয়োজন করতে গেলে নির্দিষ্ট সংখ্যক মেশিন প্রয়োজন। তাই ভোটের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই হাতে পর্যাপ্ত ইভিএম নিশ্চিত করতে চাইছে কমিশন।

আরও পড়ুন : ভারতের সেনাপ্রধান নেপালে পেলেন বিরল সম্মান! ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ফের নিযুক্ত হবেন গোর্খারা?
এখন প্রশ্ন একটাই—হাইকোর্টের নির্দেশের পর জেলা প্রশাসনের হেফাজতে থাকা ইভিএমগুলি কত দ্রুত রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতে আসে। কারণ মেশিনের ঘাটতি মিটলেই পুরভোটের প্রস্তুতি অনেকটা গতি পাবে। আর তা না হলে কলকাতা ও হাওড়ার ভোটের সময়সূচি নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।













