বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কর্মীসংখ্যা ও বেতন বাবদ খরচের টাকায় সামঞ্জস্য নেই। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) কর্তৃপক্ষ জানতে পেরেছে, যে পরিমাণ কর্মী রয়েছেন, তার তুলনায় প্রত্যেক মাসে বেতন ও মজুরি হিসাবে বেশি টাকা বেরিয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল পরিচালিত এই পুরসভার (KMC) বিগত ১৬ বছরের নিয়োগ দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে।
আর্থিক গরমিলের উৎস খুঁজতে তদন্ত কমিটি গঠন | (Kolkata Municipal Corporation)
কেএমসি সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভার স্পেশ্যাল কমিশনার সৌম্য ভট্টাচার্য এই বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। পুরসভার ওয়ার্ড অফিস, বিভিন্ন বিভাগীয় দফতর, বরো অফিস, মূল ভবনের কর্মী, পুরসভার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য তদন্তের অধীন নিয়ে আসা হয়েছে। কোথায় কত কর্মী আছেন, স্থায়ী ও অস্থায়ীর সংখ্যা কত, এজেন্সির মাধ্যমে কতজনের নিয়োগ হয়েছে, সরাসরি চুক্তিভিত্তিক কর্মী কতজন, বিভিন্ন প্রকল্পে কতজন কাজ করছেন, সব খতিয়ে দেখা যাবে।
আরও পড়ুনঃ অন্নপূর্ণা যোজনায় অগ্রাধিকার পাবেন ২ ধরণের মহিলারা! রাখঢাক না করেই এবার জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
পাশাপাশি বায়োমেট্রিক হাজিরাও খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি। কর্মীরা শুধু হাজিরা খাতায় সই করেন নাকি বাস্তবেও কাজে আসেন, নিয়মিত কাজ করেন তা খতিয়ে দেখা হবে। সেই সঙ্গেই কারা বেতন, কারা দৈনিক মজুরি ও কারা নানা ধরণের ভাতা পান, সেসবের আলাদা তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
এক্ষেত্রে জানিয়ে রাখি, কলকাতা পুরসভায় বর্তমানে ১৪ হাজারের কিছু কম স্থায়ী কর্মী ও ১৬ হাজারের কিছু বেশি অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। সেই সঙ্গেই ১০০ দিনের প্রকল্পের প্রচুর কর্মীও আছেন। সম্প্রতি হিসাব খতিয়ে দেখতে গিয়ে আর্থিক গরমিলের বিষয়টি পুরসভা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
পুর কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, অস্থায়ী কর্মীদের কাজের হিসাবে যে পরিমাণ বেতন কিংবা মজুরি পাওয়ার কথা, তার থেকে বেশি টাকা কোষাগার থেকে বেরিয়েছে। এই গরমিলের একটি বৃহৎ অংশ কর্মী সরবরাহকারী এজেন্সিগুলির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা পুর প্রশাসনের একাংশের।

এই বিষয়ে এক পুর আধিকারিক বলেন, কর্মীসংখ্যার সঙ্গে বেতন বাবদ খরচের টাকায় সামঞ্জস্য নেই। সেই কারণে প্রথমে অস্থায়ী কর্মীদের তালিকা বানানো হবে। এরপর কর্মী ধরে ধরে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করা হবে। পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি যে প্রাথমিক রিপোর্ট দেবে, তার ভিত্তিতেই পুরসভা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়েছে ২০২৬ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এরপরেই সামনে এল কলকাতা পুরসভার কর্মীসংখ্যা ও বেতনের হিসাবে গরমিলের অভিযোগ। তৃণমূল আমলের নিয়োগ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের রিপোর্টে কী উঠে আসে সেটাই দেখার।













