বাংলা হান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) রংপুরে এটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। যেটির পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে হইচই। মূলত, সেখানে একটি হিন্দু পরিবারের ৪ জন সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু (Death) ঘটেছে। গত শনিবার গভীর রাতে একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ১২ বছর বয়সী পুত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তের (Investigation) ভিত্তিতে পুলিশ সন্দেহ করছে যে, ৪ জনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পুলিশের মতে, গত শনিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ওই বাড়ির ভেতর থেকে মরদেহগুলি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ, সিআইডি ও গোয়েন্দা শাখার দল সম্মিলিতভাবে তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দু পরিবারের ৪ সদস্যের রহস্যমৃত্যু:
রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক: মৃতদের মধ্যে রয়েছেন রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫) এবং তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০)। এছাড়াও, তাঁদের কন্যা আগামী চক্রবর্তী (২৩) এবং পুত্র প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে রংপুর মেট্রোপলিটন সিআইডি আধিকারিক সুবীর চৌধুরীর মতে, প্রীতিলতা ও আগামীর মরদেহ সিঁড়ি থেকে এবং গণপতির মরদেহ ছাদ থেকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও, প্রিয়মের মরদেহ খাটের নিচ থেকে পাওয়া যায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ৪ জনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রত্যেকের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল: জানিয়ে রাখি যে আত্মীয়দের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ৪ জনেরই মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি শেষবার তাঁর দিদির সঙ্গে কথা বলেছিলেন। ক্রমাগত ফোন বন্ধ থাকায় গত শনিবার রাতে আত্মীয়রা পরিবারের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন বাড়ির প্রধান দরজা বন্ধ ছিল এবং ভেতরের আলো নেভানো ছিল। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে এবং সেখানে পরিবারের ৪ সদস্যেরই মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: হকি বিশ্বকাপে তারকাদের ভিড়! ভারতের ম্যাচ দেখতে উপস্থিত রাহুল দ্রাবিড়, স্টিভ ওয়া ও অভিষেক বচ্চন
পুলিশ একাধিক দিক থেকে তদন্ত করছে: ইতিমধ্যেই রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানিয়েছেন যে, ঘটনাটির তদন্তকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, ঘটনার উদ্দেশ্য এবং কারা এই অপরাধ করেছে, তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। গোয়েন্দা শাখাও বিষয়টির তদন্ত করছে।
সম্প্রতি নতুন বাড়ি তৈরি করেছিলেন: আত্মীয়রা জানিয়েছেন, গণপতি সম্প্রতি ওই এলাকায় একটি নতুন বাড়ি ৩ তলা বাড়ি তৈরি করেছিলেন। কিছু নির্মাণকাজ এখনও বাকি ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গণপতির সঙ্গে কারোর কোনও শত্রুতা বা বিবাদের বিষয়ে তাঁরা অবগত ছিলেন না। তাঁর ভাইঝি সোমা চক্রবর্তীও বলেছেন যে গণপতির কোনও পরিচিত শত্রু ছিল না। উল্লেখ্য যে, গণপতি চক্রবর্তী গত বছর ৩১ ডিসেম্বর রংপুর জেলা স্কুল থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসাবে প্র্যাকটিস শুরু করেন। তাঁর মেয়ে আগামী এই বছর রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। এদিকে ১২ বছর বয়সী প্রিয়ম রংপুর জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। স্থানীয় বাসিন্দা সুধাংশু চন্দ্র দাসের মতে, পরিবারটি প্রায় ৪ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করছিল।













