বাবা দর্জি, মা দিনমজুর! অভাবের সংসারে MBBS-এর স্বপ্ন ভুলে UPSC জয় করে IAS হলেন বিজয়

Published on:

Published on:

Success Story of Vijay Amrita Kulange will amaze you.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বিজয় অমৃতা কুলঙ্গে (Vijay Amrita Kulange), এই নামটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অভাবকে হার মানিয়ে সাফল্যের (Success Story) শিখরে পৌঁছনোর এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প। মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) আহমেদনগরের এক অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে তাঁর জন্ম। বাবা ছিলেন দর্জি, আর মা অন্যের জমিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। সংসারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করে বাবা-মা যে সামান্য আয় করতেন, তাতেই কোনওরকমে চলত পরিবার। কিন্তু অর্থের অভাব থাকলেও ছেলের পড়াশোনার ক্ষেত্রে তাঁরা কখনও আপস করেননি। ছোট থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী বিজয়ের চোখে ছিল বড় স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নই পরবর্তীকালে তাঁকে দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য এনে দেয়।

বিজয় অমৃতা কুলঙ্গের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

স্কুলজীবনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফল করার পর বিজয়ের লক্ষ্য ছিল চিকিৎসক হওয়া। সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষাতেও তিনি সফল হন এবং MBBS পড়ার সুযোগ পান। কিন্তু স্বপ্নপূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থ। পরিবারের পক্ষে ডাক্তারি পড়ার বিপুল খরচ বহন করা সম্ভব ছিল না। তাই অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন থেকে সরে আসতে হয় তাঁকে। পরিস্থিতির কাছে হার না মেনে বরং দ্রুত নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন বিজয়। D.Ed কোর্স করার পর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। চাকরির মাধ্যমে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যতের জন্যও ধীরে ধীরে নতুন পথ তৈরি করতে থাকেন তিনি (Success Story)।

আরও পড়ুন: পরীক্ষায় সফল! ভারতীয় সেনার শক্তি বাড়াতে প্রস্তুত ১০০ শতাংশ স্বদেশি AK-203 অ্যাসল্ট রাইফেল ‘শের’

শিক্ষকতার দায়িত্ব সামলানোর পরও পড়াশোনা থামিয়ে দেননি বিজয়। কর্মজীবনের পাশাপাশি পুণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং পরে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তাঁর লক্ষ্য আরও পরিষ্কার হয়—প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগ দেওয়া। রাজ্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি। পথটা অবশ্য সহজ ছিল না। একাধিকবার ব্যর্থতার মুখোমুখি হলেও হাল ছাড়েননি। পরিশ্রমের জোরে প্রথমে সেলস ট্যাক্স ইনস্পেক্টর পদে নির্বাচিত হন। এরপর পরীক্ষার মাধ্যমে তহসিলদারও হন। এই সময় এক সিনিয়র আধিকারিকের পরামর্শ ও অনুপ্রেরণা তাঁর জীবনের লক্ষ্যকে আরও বড় করে দেয়। এবার আর রাজ্য প্রশাসন নয়, UPSC সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়ার স্বপ্ন দেখেন বিজয়।

চাকরির ব্যস্ততার মধ্যেই UPSC-র প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়া ছিল তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দিনের কাজ শেষ হওয়ার পর যে সময়টুকু হাতে থাকত, সেটাই কাজে লাগাতেন পড়াশোনার জন্য। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করে নিয়মিত প্রস্তুতি, পরিশ্রম এবং বারবার নিজের ভুল থেকে শেখার চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই অধ্যবসায়ের ফলও আসে। ২০১২ সালের UPSC সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় ১৭৬তম স্থান অর্জন করেন বিজয় অমৃতা কুলঙ্গে। এক সময় যে পরিবারে চিকিৎসার পড়াশোনার খরচ জোগাড় করাই অসম্ভব হয়ে উঠেছিল, সেই পরিবারের ছেলেই এবার দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রশাসনিক পরিষেবায় জায়গা করে নিলেন।

Success Story of Vijay Amrita Kulange will amaze you.

আরও পড়ুন: খাবারের প্যাকেটে মিথ্যে দাবি! কড়া অ্যাকশন FSSAI-র, নেসলে-পেপসিকো সহ একাধিক সংস্থায় ১৫০-রও বেশি নোটিস

এরপর ২০১৩ ব্যাচের ওড়িশা ক্যাডারের IAS অফিসার হিসেবে প্রশাসনিক জীবনে পা রাখেন বিজয়। তাঁর এই সাফল্য (Success Story) শুধু একটি চাকরি পাওয়ার গল্প নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও স্বপ্নকে আঁকড়ে থাকার উদাহরণ। অর্থের অভাব তাঁকে চিকিৎসক হতে দেয়নি, কিন্তু সেই আক্ষেপকে জীবনের শেষ কথা হতে দেননি তিনি। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে একের পর এক পরীক্ষায় সাফল্য, ব্যর্থতার পরেও নতুন করে চেষ্টা এবং শেষ পর্যন্ত UPSC-তে কৃতিত্ব—বিজয়ের পথচলা দেখিয়ে দেয়, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে স্থির থাকলে পথ খুঁজে নেওয়া সম্ভব। তাঁর গল্প তাই আজও বহু তরুণের কাছে পরিশ্রম, ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাসের এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণা।