বাংলা হান্ট ডেস্ক : রান্নাঘরে গ্যাস (LPG Cylinder) ব্যবহারের নিয়মে এবার বড় বদল। বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে PNG পরিষেবা পৌঁছে গেলে আর আগের মতো LPG সিলিন্ডারের সংযোগ রেখে দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। ফলে যে সব পরিবার এতদিন LPG সিলিন্ডারের পাশাপাশি PNG ব্যবহার করছিল, তাঁদের জন্য নতুন নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে।
গ্যাস (LPG Cylinder) ব্যবহারের নিয়মে বদল
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হল LPG-এর উপর বাড়তে থাকা চাপ কমানো এবং দেশের PNG পরিকাঠামোকে আরও বিস্তৃত করা। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী, যে গ্রাহকের বাড়িতে PNG পরিষেবা চালু হয়ে গিয়েছে, তাঁকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে LPG সংযোগ ছাড়তে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি নিয়মে সংশোধন আনা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনও বাড়িতে PNG সংযোগ থাকলে সেই পরিবারের LPG সংযোগ সক্রিয় রেখে আর LPG রিফিল নেওয়া যাবে না। ২০২৬-এর মে মাসের নির্দেশ অনুযায়ী, PNG পরিষেবা নেওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে LPG সংযোগ বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন কোনও জায়গায় স্থানান্তর হলে, যেখানে PNG পরিষেবা নেই, সেখানে LPG ব্যবহারের জন্য ট্রান্সফার ভাউচার নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিস্থিতিরও যোগ রয়েছে। ২০২৬ সালে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে। এর আঁচ LPG সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে চাপ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে LPG উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং বিকল্প হিসেবে PNG নেটওয়ার্ক দ্রুত বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছে সরকার। দেশের আরও বেশি বাড়িতে PNG পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে কেন্দ্রের।

আরও পড়ুন : হদিশ নেই হাজার হাজার কুইন্টাল রেশন ধানের! CAG রিপোর্টে বিস্ফোরক তথ্য
PNG সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শুধু কেন্দ্র বা রাজ্য স্তরেই নয়, জেলা পর্যায়েও নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার, তেল বিপণন সংস্থা এবং City Gas Distribution সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। রান্নার গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। LPG সিলিন্ডারের উপর নির্ভরতা কমিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতেই কেন্দ্রের এই উদ্যোগ।













