বাংলা হান্ট ডেস্কঃ অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ উঠছে। কোথাও টাকা না পাওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও যোগ্য-অযোগ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই নিয়ে বিক্ষোভও হচ্ছে। এর মধ্যেই মালদায় অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিজেপি নেতার একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সরকারি প্রকল্প নিয়ে গুজব ছড়ালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্নপূর্ণা (Annapurna Yojana) নিয়ে কী বললেন মালদার বিজেপি নেতা?
মালদার হবিবপুরের বিজেপি জেলা পরিষদ সদস্য তারাশঙ্কর রায় একটি সভায় বলেন, বিজেপি সরকারের সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি কেউ যদি সরকারের বদনাম করেন, তাহলে তাঁরা সাবধান হয়ে যান। সেখানেই তিনি বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনায় (Annapurna Yojana) নাম তুলতে পারলে, কাটতেও পারি।’ তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসতেই শুরু হয় বিতর্ক। তবে তাঁর এই বক্তব্য নিয়ে বিজেপির জেলা সভাপতিও আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, জনপ্রতিনিধিদের কথা বলার সময় একটু ভেবেচিন্তে কথা বলা উচিত।
এরপর নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন তারাশঙ্কর রায়। তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মানুষের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের কিছু লোক এবং কয়েকজন সুবিধাভোগী এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়েও সাধারণ মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন।
বিজেপি নেতার দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) বন্ধ হয়ে যাবে বলে গ্রামে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এর ফলে অনেক সাধারণ মানুষ ভয় পাচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, গ্রাম থেকে শহর, মানুষ অ্যাকাউন্টে টাকা পাচ্ছেন। তাই এই ধরনের গুজব বন্ধ করতেই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, কাদের টাকা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে? জবাবে তারাশঙ্কর রায় বলেন, যাঁরা মানুষকে ভুল বোঝাবেন, সরকারের নামে বদনাম করবেন বা গুজব ছড়াবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হবে।

আরও পড়ুনঃ গার্ডেনরিচে একসঙ্গে ৫ মেগা প্রকল্পের সূচনা, যুদ্ধজাহাজ তৈরিতে বিনিয়োগ ৩৪০০ কোটি
বিজেপি নেতার এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। বিধানসভা ভোটের আগে মালদা জেলা পরিষদ তৃণমূলের দখলে ছিল। ৩৪টি আসন পেয়েছিল তৃণমূল, ৫টি কংগ্রেস এবং ৪টি বিজেপি। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মালদা জেলা পরিষদে অনাস্থা আনা হয়। সেই পরিস্থিতিতে অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) নিয়ে বিজেপি জেলা পরিষদ সদস্যের এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।













