বাংলা হান্ট ডেস্ক : অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হল তৃণমূল-বিজেপির তরজা। মহিলাদের আর্থিক সহায়তার প্রকল্প নিয়ে সোমবার ফেসবুক লাইভে বক্তব্য রাখার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেন। প্রকল্পের নাম নিয়ে এই বিভ্রাটের পরেই তাঁকে আক্রমণ করে বিজেপি।মমতার মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সরব হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
‘অন্নপূর্ণা’ প্রকল্প নিয়ে মমতাকে কটাক্ষ ঋতব্রতর (Ritabrata Banerjee)
তৃণমূল সরকারের সময়ে রাজ্যের মহিলাদের জন্য চালু হয়েছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। সরকার পরিবর্তনের পর বিজেপি সেই আর্থিক সহায়তার অঙ্ক বাড়িয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করে। সোমবারের ফেসবুক লাইভে মমতা নতুন প্রকল্পটির নাম বলতে গিয়ে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ বলায় বিতর্কই আরও উসকে যায়।
মমতার মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সরব হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কটাক্ষ, “উনি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার আর যোজনা গুলিয়ে ফেলেছেন।” তবে শুধু প্রকল্পের নাম নিয়ে আক্রমণ করেই থামেননি তিনি। অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে যাতে প্রকৃত উপভোক্তারা বাদ না পড়েন, সে বিষয়েও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ঋতব্রত বলেন, “যোজনায় যাতে কেউ বাদ না যান সেটা দেখতে হবে। একই সাথে কোনও পুরুষ যেন সুযোগ না পান।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বক্তব্য রাখার বর্তমান পদ্ধতি নিয়েও কটাক্ষ করেন ঋতব্রত। তাঁর কথায়,”উনি আজকাল ফেসবুক লাইভে সব বলছেন। ফেসবুকের বাইরে আগে বেরিয়ে আসুন। উনি এত পুরোনো দিনের রাজনৈতিক ব্যক্তি। পছন্দের সাংবাদিকদের ডেকে কথা বলুন। গণতন্ত্র কথা বলছেন, লড়াইয়ের কথা বলছেন সব ভালো। কিন্তু আগে ফেসবুক থেকে বেরিয়ে আসুন।”
এদিকে, মমতার ফেসবুক লাইভে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে করা অভিযোগের পাল্টা জবাব আসে নবান্ন থেকেও। সোমবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি পরিসংখ্যান তুলে ধরে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। একইসঙ্গে মমতার ফেসবুক লাইভ নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।

আরও পড়ুন :পুজোয় উত্তরবঙ্গ যেতে টিকিটের চিন্তা নেই! জেনে নিন সহজ পথ
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অন্নপূর্ণা যোজনায় এখনও পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক মহিলা সুবিধা পেয়েছেন। এদিন মমতাকে উদ্দেশ্য করে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ফেসবুকেই আপনি থাকুন বিকেল বেলা”। এরপর প্রকল্পের উপভোক্তার পরিসংখ্যান প্রকাশ করে শুভেন্দু জানান, “অন্নপূর্ণা যোজনাতে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪৭২। ১৯ লক্ষ ২০ হাজার মুসলিম উপভোক্তা আছে। বর্ণ, ধর্ম না দেখে আমরা দিচ্ছি না।” উল্লেখ্য, অন্নপূর্ণা যোজনার নাম নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন শুধুমাত্র প্রকল্পের নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আগামী দিনে এই প্রকল্পই যে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হতে চলেছে, সোমবারের ঘটনাই তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।













