বিক্ষোভ-আন্দোলন পেরিয়েও ভাটা পড়েনি জনপ্রিয়তায়! প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ফের মোদীকেই চান দেশবাসী

Published on:

Published on:

The people of the country want Modi again as the Prime Minister of India.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশজুড়ে (India) একের পর এক আন্দোলন, বিতর্ক এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণের মধ্যেও নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি মানুষের আস্থায় এখনও বড় ধাক্কা লাগেনি এমনই ইঙ্গিত মিলেছে ‘মুড অফ দ্য নেশন’ (MOTN) সমীক্ষায়। ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র জন্য সি-ভোটার পরিচালিত ২০২৬ সালের আগস্টের এই সমীক্ষা অনুযায়ী, এই মুহূর্তে লোকসভা নির্বাচন হলে এনডিএ ৩২৬টি আসন পেতে পারে। অর্থাৎ বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা কিছুটা কমলেও শরিকদের নিয়ে ফের সরকার গঠনের মতো শক্তি এনডিএ-র হাতে থাকছে। ফলে গত কয়েক মাসের নানা ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হলেও ভোটের অঙ্কে এখনও শাসক জোটই এগিয়ে রয়েছে বলে সমীক্ষার ফলাফলে দাবি করা হয়েছে।

ভারতের (India) প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ফের মোদীকেই চান দেশবাসী:

তবে বিজেপির জন্য ছবিটা একেবারে আগের মতো নেই। সমীক্ষায় বিজেপি একা ২৬১টি আসন পেতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে, যেখানে ছয় মাস আগের MOTN রিপোর্টে দলটির সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ছিল ২৮৭। অর্থাৎ ২৬টি আসন কমেছে এবং এবার এককভাবে ২৭২-এর ম্যাজিক ফিগার ছোঁয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা বেড়ে ১০৬ হয়েছে। আগের জানুয়ারির সমীক্ষায় কংগ্রেসের জন্য ৮০টি আসনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ বিরোধী শিবিরে কিছুটা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত থাকলেও বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র মোট আসন এখনও অনেকটাই বেশি। ২০২৪-এর নির্বাচনে ‘৪০০ পার’ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রচার চালানো বিজেপির আসন কমার এই সম্ভাবনা তাই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: উৎসবের মুখে চিন্তা বাড়াচ্ছে চিনি! কেনাকাটায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ, কড়াকড়ি অনলাইন অর্ডারেও

প্রধানমন্ত্রী হিসাবে অবশ্য নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা এখনও বেশ শক্তিশালী বলেই উঠে এসেছে সমীক্ষায়। ৪৮.৭ শতাংশ উত্তরদাতা প্রধানমন্ত্রী পদে মোদিকেই তাঁদের পছন্দ হিসাবে জানিয়েছেন। তাঁর পরে রয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, যাঁর পক্ষে মত দিয়েছেন ২৭.১ শতাংশ মানুষ। এরপর ৯.২ শতাংশ সমর্থন নিয়ে রয়েছেন তামিল অভিনেতা তথা তামিলাগা ভেট্রি কাজাগমের নেতা থলপতি বিজয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ২ শতাংশ সমর্থন, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব ১.৭ শতাংশ এবং আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল ১.২ শতাংশ। ফলে প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে মোদির সঙ্গে অন্যদের ব্যবধান এখনও যথেষ্ট বলেই সমীক্ষার পরিসংখ্যান বলছে।

তবে ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি-র মনোভাব আগামী দিনে রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। নিট পরীক্ষা, কৃষকদের দাবি, ই-২০ জ্বালানি-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে গত কয়েক মাসে দেশজুড়ে অসন্তোষ ও প্রতিবাদ দেখা গিয়েছে। সোশাল মিডিয়াতেও সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা এবং প্রচার তীব্র হয়েছে। কিন্তু সেই অনলাইন বিতর্কের প্রতিফলন যে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফলে একইভাবে পড়ছে না, MOTN-এর পরিসংখ্যান অন্তত তেমনটাই দেখাচ্ছে। একইসঙ্গে কংগ্রেসের আসন বাড়ার সম্ভাবনা বিরোধী শিবিরের জন্য কিছুটা ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

The people of the country want Modi again as the Prime Minister of India.

আরও পড়ুন: তিব্বত সীমান্তে ফুঁসছে তৈরি হওয়া নতুন হ্রদ! ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা, নেপালকে সতর্ক করল চিন

উল্লেখ্য, ‘মুড অফ দ্য নেশন’ সমীক্ষা বছরে দু’বার প্রকাশ করা হয়। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় দফার এই সমীক্ষার জন্য ১ জুলাই থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত মানুষের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মোট ২৫,১৮৪ জনের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেছে সি-ভোটার। অবশ্যই এটি একটি মতামতভিত্তিক সমীক্ষা, কোনও নির্বাচনের নিশ্চিত ফল নয়। ভোট এখনও বহু দূরে এবং তার আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জোটের সমীকরণ, অর্থনীতি, বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচন এবং নতুন ইস্যু—সবই বদলে যেতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সমীক্ষার সবচেয়ে বড় বার্তা হল, বিজেপির আসন কিছুটা কমার সম্ভাবনা থাকলেও মোদির নেতৃত্বে এনডিএ এখনও জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থানেই রয়েছে (India)।