‘তৃণমূল ঘাসফুলের দল, যত কাটবে তত বাড়বে’, সাইনবোর্ড কাণ্ডের পর হুঙ্কার অভিষেকের

Published on:

Published on:

Abhishek Banerjee comment after Camac Street Bannar removed.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বৃহস্পতিবার কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) অফিসের সামনে তৃণমূলের (TMC) একটি বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে হুলস্থুল কান্ড বেঁধে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই পুলিশ আর পুরসভার কর্মীদের সাথে বচসা বেঁধে যায় তৃণমূল সাংসদের। তুমুল ধস্তাধস্তি, থেকে শুরু করে তর্কাতর্কিতেও জড়িয়ে পড়েন অফিসের কর্মীরা।

অভিষেকের অফিসের বিলবোর্ড খুলতেই তোলপাড় ক্যামাক স্ট্রিট

ওই ঘটনার পরেই এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিষেক। রীতিমতো হুংকার ছেড়ে এদিন তিনি বললেন, ‘তৃণমূল ঘাসফুলের দল। ঘাস যত কাটবেন, ঘাস তত বাড়বে। ঘাস কেটে শেষ করতে পারবেন না। এই ক্ষমতাটা, এই এনার্জিটা আপনি চারটে মানুষের উপকার করার জন্য লাগান। মানুষ আশীর্বাদ করবে, ভালো কাজ করুন।

এরপরেই তিনি দাবী করেন, ‘এখানে দেখুন বাইরে হলদিরামের বোর্ড লাগানো আছে। এইটা পাবলিক স্পেসের ওপর। এই বোর্ডটা খুলবে? কেন আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়ে আছে? ফুটপাতের ওপর বোর্ড লাগানো। পুলিশ এখানে দাঁড়িয়ে, কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা এখানে দাঁড়িয়ে কেউ খুলবে না। আজকে যারা একের পর এক অবৈধ বিল্ডিং করেছে সবার সাত খুন মাফ হয়ে গেছে। তার কারণ তারা বিজেপির হাতে এখন তামাক খাচ্ছেন। যারা ভোটের আগে বলেছিল এই করবো, তাই করবো তারপর? বিজেপির বি টিম হওয়ায় সব মাফ।’

আরও পড়ুনঃ ১৮০ সিট আমরা পৌঁছে যাব! কলকাতা কর্পোরেশন মেয়র নির্বাচনের আগেই ইঙ্গিত সুকান্ত মজুমদারের

সরাসরি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তৃণমূল সাংসদ এদিন দাবী করলেন, ‘পুলিশ আজকে যে আচরণ করেছে, যে গুন্ডাগিরি করেছে আমি ইন্ডিভিজুয়ালি এদের পার্টি করে হাইকোর্টে রিট ফাইল করবো। কেউ যদি ভাবে এখনও একনায়কতন্ত্র চলছে, ভারতবর্ষে দেশের সংবিধানের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কোন অবৈধ কাজ পুলিশও করতে পারে না, কোনো রাজনৈতিক দলও করতে পারে না, কোনো সরকারও করতে পারে না। কোনো কর্পোরেশনও করতে পারে না। কেউ করতে পারে না। সংবিধান মেনে সবাইকে কাজ করতে হবে।’

উপস্থিত সংবাদ মাধ্যমের উদ্দেশ্যে এদিন অভিষেক ব্যানার্জি বললেন, ‘সংবাদমাধ্যমকে আমি বলব সঠিক খবরটা আপনারা তুলে ধরুন। যেভাবে মানুষকে হয়রানি করছে, হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে গরীব, নিম্ন মধ্যবিত্ত, এসসি- এসটি, মাইনোরিটি, ওবিসি একের পর এক বুলডোজার চালিয়ে গরীব মানুষের ঘর ভেঙে দেওয়া। তাদের রুজি রোজগারের উপায় দোকানপাট সব ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া।

এরপরেই পার্কস্ট্রিটের রাস্তায় দুধ গরম করার প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বললেন, ‘একজন গরিব মানুষ রাস্তায় থাকলে তাকে একটা বাড়ি না দিয়ে বিজেপির নেতারা ভাষণবাজি করছেন? সে কেন রাস্তায় দুধ গরম করছে? তার জন্য একটা বাড়ি তো করে দিতে পারো না? তৃণমূলের প্রতিনিধি দল গিয়েছে তারপরে মুখ্যমন্ত্রী ডেকে পাঠিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যদি এই ঘটনাকে সমর্থন না করেন তাহলে অভিনীত পালের বিরুদ্ধে তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন?’

আরও পড়ুনঃ বাংলায় ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের ১০০% কাজ দেবে ‘রোজগার গ্যারান্টি কার্ড’, জারি হল নির্দেশিকা

এরপর একজন সাংবাদিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে সরাসরি প্রশ্ন করেন, আপনি কি তাহলে অবৈধ এনক্রোচমেন্টকে সমর্থন করছেন? প্রশ্ন শুনেই অভিষেক প্রথমে বললেন খুব ভালো প্রশ্ন। তারপরেই পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বললেন, ‘ আমার একটা পাল্টা প্রশ্ন থাকবে, একটা ছোট্ট প্রশ্ন। আপনারাই বলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চা বিক্রি করতেন রেলওয়ে স্টেশনে। রেলের স্টেশনটা কি তাঁর সম্পত্তি ? নাকি পাবলিকের সম্পত্তি এই উত্তরটা আগে দিক।’