বাংলাহান্ট ডেস্ক: আপনি কি নিরামিষভোজী (Veg and Non-veg)? তাহলে বাজার থেকে সাবান, শ্যাম্পু কিংবা টুথপেস্ট কেনার সময় এবার থেকে প্যাকেটের গায়েই চোখ রাখতে হবে। কারণ, সংশ্লিষ্ট পণ্যটি নিরামিষ না কি আমিষ, তা বোঝার জন্য বিশেষ চিহ্ন দেওয়ার নিয়ম চালু করার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক (Union Ministry of Consumer Affairs)। অর্থাৎ, পণ্যের উপাদান নিয়ে দীর্ঘ তালিকা পড়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে মোড়কে থাকা নির্দিষ্ট চিহ্ন দেখেই ক্রেতারা বিষয়টি বুঝে নিতে পারবেন। এই নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্যই হল পণ্য সম্পর্কে ক্রেতাদের আরও স্পষ্ট তথ্য দেওয়া এবং কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি কমানো।
টুথপেস্ট-সাবানের প্যাকেটেও এবার ‘আমিষ না নিরামিষ’ (Veg and Non-veg) জানাতে হবে, নতুন নিয়ম আনছে কেন্দ্র
উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের আওতাধীন ‘লিগ্যাল মেট্রোলজি (প্যাকেজড কমোডিটিজ) রুলস, ২০১১’-এর সংশোধনের মাধ্যমে এই নির্দেশ কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পণ্য নিরামিষ (Veg and Non-veg) হলে তার প্যাকেটের গায়ে সবুজ রঙের বিন্দু থাকবে। অন্যদিকে, পণ্যে প্রাণিজ উপাদান থাকলে লাল অথবা বাদামি রঙের চিহ্ন ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। শুধু চিহ্ন থাকলেই হবে না, সেটি এমন জায়গায় রাখতে হবে যাতে সাধারণ ক্রেতার নজরে সহজেই পড়ে। ফলে দোকানে দাঁড়িয়ে পণ্য কেনার সময়ই ক্রেতারা সেটি নিরামিষ না আমিষ, তা দ্রুত যাচাই করার সুযোগ পাবেন।
এতদিন অনেক ক্ষেত্রেই নিরামিষভোজীদের জন্য সমস্যাটা তৈরি হত পণ্যের উপাদানের তালিকা বুঝতে গিয়ে। খাবারের ক্ষেত্রে বিষয়টি তুলনামূলক ভাবে পরিষ্কার হলেও সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট কিংবা বিভিন্ন প্রসাধনীতে ব্যবহৃত উপাদানের নাম দেখে সব সময় বোঝা সহজ হয় না সেগুলির উৎস কী। কোনও কোনও পণ্যে প্রাণিজ উৎস থেকে পাওয়া উপাদান ব্যবহার করা হতে পারে। ফলে নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা ক্রেতাদের জন্য কেনাকাটার আগে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। নতুন চিহ্ন ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হল সেই তথ্যটি প্যাকেটের সামনেই আরও সহজ করে তুলে ধরা।
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এর দায়িত্ব মূলত পণ্য প্রস্তুতকারী ও বিপণনকারী সংস্থাগুলির উপরই পড়বে। সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রকৃতি অনুযায়ী নির্ধারিত চিহ্ন সঠিক ভাবে প্যাকেটে ব্যবহার করতে হবে। এর ফলে শুধু ক্রেতাদের সুবিধাই হবে না, সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও পণ্যের উপাদান এবং তার শ্রেণিবিভাগ নিয়ে আরও স্বচ্ছতা বজায় রাখার চাপ তৈরি হবে। বিশেষ করে দৈনন্দিন ব্যবহারের এমন পণ্য, যেগুলি সরাসরি খাবার নয় অথচ ব্যক্তিগত ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত, সেগুলির ক্ষেত্রেও ক্রেতার পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

আরও পড়ুন: ফেডারেশনের চাপে মাঝপথে বন্ধ শুটিং, বাধা কাটিয়ে অবশেষে মুক্তির পথে সৌম্য-মৌমিতার ‘হ্যারি ওম’
কেন্দ্রের এই উদ্যোগের ফলে বাজারে পণ্য বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নিরামিষভোজীদের (Veg and Non-veg) জন্য বিষয়টি আরও সহজ হওয়ার কথা। প্যাকেটের নির্দিষ্ট চিহ্ন দেখেই তাঁরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্যটি বেছে নিতে পারবেন। তবে কোনও পণ্যের ক্ষেত্রে চিহ্ন, উপাদানের তালিকা বা প্রস্তুতকারকের দেওয়া তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি চোখে পড়লে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া বা অভিযোগ জানানোর সুযোগও থাকবে। সরকারি ভাবে ‘লিগ্যাল মেট্রোলজি (প্যাকেজড কমোডিটিজ) রুলস, ২০১১’ কাঠামোর অধীনেই প্যাকেটজাত পণ্যের ঘোষণা সংক্রান্ত নিয়মগুলি পরিচালিত হয়।














