নেপাল না চিন? হড়পা বানে মহাপ্রলয়ের নেপথ্যে দায়ী কে?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: নেপাল (Nepal)-চিন (China) সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার (Nepal Flash Floods) পর বিপর্যয়ের আসল কারণ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। বুধবার, ২৬ অগস্ট, ভোটেকোশি নদীতে আচমকা জলস্ফীতি ও ধসের জেরে রসুয়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। নদীর প্রবল স্রোতে বাড়িঘর, সেতু, রাস্তা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনাটির কারণ নিয়ে নানা তত্ত্ব সামনে এলেও, নেপালের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য এবং উপগ্রহ-চিত্রের প্রাথমিক বিশ্লেষণে বরফ ও পাথরের বিশাল ধসের পর একটি অস্থায়ী জলাধার তৈরি হয়ে সেটি ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাই জোরালো হয়ে উঠেছে।

 নেপালে (Nepal) হড়পা বানে মহাপ্রলয়ের নেপথ্যে দায়ী কে?

এই বিপর্যয়ের পর নেপাল (Nepal) ও চিনের মধ্যে অবশ্য চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। কাঠমান্ডুর একাংশের অভিযোগ, সীমান্তের ওপারে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি সম্পর্কে পর্যাপ্ত এবং সময়মতো সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি। এমনকি তথ্য পৌঁছতে দেরি হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অন্যদিকে, বেজিং এই বিপর্যয়ের জন্য নিজেদের কোনও বাঁধ বা জলাধারকে দায়ী করার দাবি খারিজ করেছে। চিনের তরফে বরং বলা হয়েছে, সীমান্তের দুই দিকেই এই দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং এখন দোষারোপের বদলে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে পারস্পরিক সহযোগিতাই বেশি জরুরি। ঘটনাস্থলের দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার ১২ বছর পূর্ণ! ৫৯ কোটি মানুষ খুলেছেন জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্ট

বন্যার উৎস নিয়ে প্রথম দিকে তিনটি সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। একটি মত ছিল, তিব্বতের গিয়োরং এলাকার কাছে ভূমিধস বা বরফধসের কারণে নদীর গতিপথ আটকে গিয়ে সাময়িক জলাধার তৈরি হয়েছিল। সেই জলাধারের বাঁধ হঠাৎ ভেঙে পড়লে বিপুল জল ও পাথর নেমে আসে। আরেকটি সম্ভাবনা হিসেবে ভূমিকম্পের কথা বলা হলেও, পরবর্তী উপগ্রহ ও ভূকম্পন-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা বরফধসকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগের প্রাথমিক বিশ্লেষণেও নদীর উজানে ধসের ফলে অস্থায়ী জলাধার তৈরি এবং পরে সেটি ভেঙে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তবে হিমালয় অঞ্চলে এমন বিপর্যয়ের ঝুঁকি যে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে, তার প্রমাণও মিলেছে বিভিন্ন গবেষণায়। ICIMOD এবং UNDP-র ২০২০ সালের যৌথ সমীক্ষায় কোশি, গণ্ডকী ও কর্ণালী অববাহিকায় ৩,৬২৪টি হিমবাহ-হ্রদের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৪৭টিকে সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। গবেষণায় বলা হয়, হিমবাহ গলতে থাকায় নতুন হ্রদ তৈরি হওয়া এবং পুরনো হ্রদের আয়তন বাড়ার ফলে আকস্মিক হ্রদভাঙা বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। তবে বর্তমান ভোটেকোশি বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে ঠিক কোন হ্রদ বা কোন নির্দিষ্ট কাঠামো ভেঙে বন্যার সূত্রপাত হয়েছে, তা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে।

Who is really responsible for the catastrophic flash floods in Nepal?

আরও পড়ুন: আরও গতি পাবে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ লক্ষ্য! আগামী ৪ বছরেই ভারতে আসবে ৭ লক্ষ কোটির জাপানি ফান্ড

এদিকে, বিপর্যয়ের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির ছবিও ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। নেপালে (Nepal) মৃতের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে এবং শত শত মানুষ এখনও নিখোঁজ। বহু বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরও কোনও খোঁজ মিলছে না। চিনের তিব্বত অঞ্চলেও প্রাণহানি ও নিখোঁজের খবর রয়েছে। ফলে এই বন্যাকে শুধু নেপালের অভ্যন্তরীণ বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে না; গোটা হিমালয় অঞ্চলের দুর্যোগ-প্রস্তুতি এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার বড় পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এখন মূল লক্ষ্য নিখোঁজদের সন্ধান, ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে নেপাল, চিন ও ভারতের মধ্যে আরও কার্যকর তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা তৈরি করা।