বাংলা হান্ট ডেস্কঃ জনগণনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে নতুন সমস্যায় পড়ছেন কর্মীরা। বাড়ি, জমি, গাড়ি, বাইক বা পরিবারের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলেই অনেকেই ঠিক তথ্য দিতে চাইছেন না বলে অভিযোগ। এর পিছনে অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) নিয়ে মানুষের ভয় কাজ করছে বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ।
অন্নপূর্ণার (Annapurna Yojana) ভয়, তথ্য দিতে আপত্তি
পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা-৩ ব্লকে জনগণনার কাজে গিয়ে একটি বাড়ির সামনে গাড়ি দেখতে পান কর্মীরা। গাড়িটির তথ্য লিখতে গেলে পরিবারের লোকজন বলেন, সেটি তাঁদের নয়। যদিও কর্মীদের কাছে গাড়িটি নিয়ে অন্য তথ্য ছিল। বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা তৈরি হলে প্রশাসনের কর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। গড়বেতা-৩-এর বিডিও দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য ঘটনাটি মেনে নিয়েছেন। তবে তিনি সংবাদমাধ্যমে কিছু বলতে চাননি।
বীরভূমের সিউড়ি সদর মহকুমার কয়েকটি এলাকাতেও একই ধরনের ছবি দেখা গিয়েছে। কোথাও পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও পরিবারের বয়স্ক সদস্যরা ঝুপড়ি বা টিনের ঘরে থাকছেন। জনগণনার এক কর্মীর কথায়, অনেক জায়গায় ছেলে দোতলা বাড়িতে থাকলেও বাবা-মা থাকছেন টিন বা কাগজের ঘরে।
প্রশাসনের একাংশের মতে, এর সঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) যোগ রয়েছে। অন্নপূর্ণার ফর্ম পূরণ করেও টাকা না পাওয়ার অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হচ্ছে। তাই অনেকের ভয়, নিজেদের বাড়ি, জমি, গাড়ি বা টাকার তথ্য জানালে পরে সরকারি সুবিধা পেতে সমস্যা হতে পারে। সেই কারণেই অনেকে তথ্য দিতে চাইছেন না।
ভুল তথ্য দিলে কী করবেন কর্মীরা?
জেলা প্রশাসনের কর্তাদের বক্তব্য, বাসিন্দা যে তথ্য দেবেন, সেটিই লিখতে হবে। জনগণনার নিয়মে সেই তথ্য আলাদা করে যাচাই করার কথা নেই। কর্মীদের তাই মানুষকে বোঝাতে হচ্ছে, জনগণনার তথ্য নেওয়ার সঙ্গে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু তাতেও ভয় পুরোপুরি কাটছে না। উত্তরবঙ্গের এক মহকুমা শাসক জানিয়েছেন, জনগণনার সময় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসছে—‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাচ্ছি না কেন?’
কলকাতার কাছের একটি জেলার এক মহকুমা শাসক জানিয়েছেন, কোথাও অনেক জমি পড়ে থাকলেও তার মালিকের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। সব বুঝেও প্রশাসনের কিছু করার নেই।

আরও পড়ুনঃ মমতার বিরুদ্ধে FIR-এর নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর, কী নিয়ে? খবর প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড়
ফলে অন্নপূর্ণা (Annapurna Yojana) নিয়ে মানুষের ভয় জনগণনার কাজেও সমস্যা তৈরি করছে। ভুল তথ্য জমা পড়লে ভবিষ্যতে মানুষের সামাজিক ও আর্থিক অবস্থার সঠিক ছবি পাওয়া কঠিন হতে পারে। এ বিষয়ে ডিরেক্টরেট অফ সেন্সাসের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।













