বাংলা হান্ট ডেস্ক : স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধানে এবার আরও সক্রিয় হতে চলেছে নবান্ন (Nabanna)। পানীয় জলের অভাব থেকে শুরু করে এলাকায় আবর্জনা জমে থাকা, নিকাশি ব্যবস্থার দুরবস্থা—এমন নানা বিষয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে সেই সমস্যার সমাধান হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এবার সেই অভিযোগগুলি সরাসরি শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাঠে নামানো হচ্ছে প্রশাসনিক আধিকারিকদের।
সমস্যা সমাধানে নবান্নের (Nabanna) বড় উদ্যোগ
এতদিন সাধারণ মানুষ অনলাইনের মাধ্যমে নিজেদের সমস্যার কথা প্রশাসনকে জানাতে পারতেন। এবার সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগও তৈরি করা হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন স্তরের সরকারি আধিকারিকদের ফিল্ড-লেভেল অফিসার হিসেবে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তাঁদের সমস্যার কথা শোনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়াই হবে তাঁদের অন্যতম প্রধান কাজ।
এই উদ্যোগে প্রশাসনের একাধিক স্তরের আধিকারিককে যুক্ত করা হচ্ছে। ডিভিশনাল কমিশনার থেকে শুরু করে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, বিডিও—প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিক, পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদেরও এই কাজে যুক্ত করা হবে। ফলে স্থানীয় সমস্যা নিয়ে অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সামনে আরও একটি পথ খুলে যাবে।
কোন দিন এবং কখন সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনা হবে, সেটিও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে সরকার। সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের অফিসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা থাকবে। ওই সময় অন্য কোনও সরকারি কাজ না করে শুধুমাত্র অভিযোগ শোনা এবং তা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ করতে হবে আধিকারিকদের।
মানুষ সরাসরি আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারেন তার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সরকারি ই-মেল এবং মোবাইল নম্বর অফিসে স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু অভিযোগ গ্রহণ করেই দায়িত্ব শেষ হবে না। গণশুনানিতে কতগুলি অভিযোগ জমা পড়ল, সেগুলির ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করা হল এবং সমস্যার সমাধান কতদূর এগোল—এই সংক্রান্ত তথ্যও সংরক্ষণ করতে হবে।
সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযোগ এবং তার ভিত্তিতে নেওয়া পদক্ষেপের বিবরণ ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ পোর্টালে আপলোড করবেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিক। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা পোর্টালে আপলোড হওয়া তথ্য নিয়মিত খতিয়ে দেখবেন। এর ফলে অভিযোগের পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়টিও প্রশাসনিক নজরদারির মধ্যে থাকবে।

আরও পড়ুন : পাকা বাড়ি ছেড়ে ঝুপড়িতে বাবা-মা! অন্নপূর্ণার ভয়ে সেন্সাসে তথ্য গোপনের অভিযোগ
সরকারের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলেও অনলাইনে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি বন্ধ হচ্ছে না। বরং ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি গণশুনানিকে যুক্ত করে অভিযোগ জানানোর সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা অনলাইন বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত। সরকারের এই পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের জন্য কতটা সুবিধাজনক হয় এখন সেটাই দেখার।













