বাংলা হান্ট ডেস্কঃ শনিবার শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান (Teachers Day) থেকে নাম না নিয়েই তৃণমূল আমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের (Mamata Banerjee Government) তুমুল সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে শিক্ষা থেকে শুরু করে আরো একাধিক বিষয়ে। যদিও চুপ থাকেননি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। পাল্টা জবাবে তিনিও বিঁধলেন রাজ্যের বর্তমান শাসক দলকে।
শিক্ষক দিবসে ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’ এর অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শনিবার বিকেলে ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে এদিন ‘প্রচারসর্বস্ব’ ও ‘সংস্কৃতিহীন’ দল বলে চরম কটাক্ষ করার পাশাপাশি বাংলার শিক্ষা-সংস্কৃতি নিয়েও পাঠ পড়ালেন রাজ্যের বিজেপি সরকারকে।
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে খানিক আফসসের সুরে প্রথমেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “আমাদের শিক্ষাগুরুরা আজ অসম্মানিত, বঞ্চিত, অত্যাচারিত। অথচ ছোটবেলায় শিক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া জ্ঞানই আমাদের জীবনের চলার পথের পাথেয়।”

আরও পড়ুনঃ খেলা মেলায় খরচ হলেও তিন বছর টাকা পাইনি স্কুল! শিক্ষক দিবসে ‘মমতার সরকার’কে নিশানা শুভেন্দুর
শনিবার সকালে নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছিলেন, তৃণমূল আমলে হওয়া শিক্ষাক্ষেত্রের দুর্নীতি থেকে শুরু করে স্বজনপোষণসহ আরও একাধিক বিষয় নিয়ে।
কার্যত সাফাই দিয়ে, এপ্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রী এদিন দাবী করেছেন, তিনি তাঁর আমলে অন্তত পাঁচটি করে স্কুলের ভবন তৈরি করার জন্য, সব বিধায়ক ও সাংসদদের সবসময় নির্দেশ দিতেন। শুধু তাই নয় এদিন এও বললেন, “রাজ্যসভার সাংসদদের তহবিল থেকেও প্রচুর স্কুল বিল্ডিং, অ্যাম্বুলেন্স এবং সিসিটিভি কভারেজ পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।” তাই তৃণমূল নেত্রীর দাবী এখনও পর্যন্ত যা কাজ করা হয়েছে, সেগুলো ঠিকঠাক রক্ষণাবেক্ষণ করলেই নাকি আরও অনেক উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুনঃ ৪০০০ এর টিকিট ১২০০০ ! উত্তরবঙ্গের ট্রেনলাইন বিপর্যয়ে বাসভাড়া নিয়ে সরব কুণাল ঘোষ
এখানেই শেষ নয় স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই প্রশ্ন তুললেন বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রচার নীতি নিয়েও। অভিযোগের সুরে তিনি বললেন, “নন্দনের ভিতরে অনুষ্ঠান হচ্ছে, আর সারা চত্বর জুড়ে মাইক লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি তো জীবনে কখনও এমনটা দেখিনি! আমি প্রতি বছর আন্তর্জাতিক কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব করেছি, কিন্তু কখনও এই ধরনের বিষয় দেখিনি। এরা একটা নীতিহীন, রুচিহীন, শব্দহীন, ভাষাহীন, সংস্কৃতিহীন এবং সম্প্রীতিহীন দল। এরা দেশটাকেও চেনে না, বাংলাটাকেও চেনে না!”













