বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আচমকা ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন উত্তরবঙ্গগামী একাধিক যাত্রীরা। মুর্শিদাবাদের ফারাক্কায় রেললাইনের তলায় ধস (Farakka Railway Line Landslide) নামার কারণে ইতিমধ্যেই একের পর এক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। যার ফলে বিরাট হয়রানির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়েই বিকল্প হিসাবে বাসের জন্য টিকিট কাটছেন অধিকাংশ যাত্রী। এবার সেই নিয়েই সরব হলেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।
উত্তরবঙ্গের ট্রেন বাতিল হতেই ধরা ছোঁয়ার বাইরে বাসের টিকিট
বাসের টিকিট কাটতে গিয়েও শান্তি নেই। সেখানেও হাজির আরও এক সমস্যা। ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে এক ধাক্কায় কয়েক হাজার টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অধিকাংশ বাসের টিকিটের দাম। যা দেখে রীতিমতো চক্ষু চড়ক গাছ অধিকাংশ যাত্রীদের। সবচেয়ে বড় কথা হল সাধারণ মানুষের এই বিপদের দিনেও যারা বাসের ভাড়া ৪০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক ধাক্কায় ১২০০০ টাকা করে দিয়েছেন প্রশ্ন উঠছে তাদের মানবিকতা নিয়েও।
শনিবার এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানালেন তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ। এদিন প্রথমেই রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বললেন, ‘মনিটরিং তো এখানে দরকার ছিল। এটা পরিবহন দপ্তর বা রাজ্য সরকার বা তাদের একটা কো-অর্ডিনেশন যে-কোনো কারণে একটা বিপর্যয় হয়েছে লাইনে। ফলে উত্তরবঙ্গে নিশ্চিতভাবে জরুরী ট্রেনগুলো বাতিল হচ্ছে। তাহলে মানুষ যাবেন কী করে?’
আরও পড়ুনঃ খেলা মেলায় খরচ হলেও তিন বছর টাকা পাইনি স্কুল! শিক্ষক দিবসে ‘মমতার সরকার’কে নিশানা শুভেন্দুর
পাশাপাশি কুণাল বাবুর দাবী, ‘এই সুযোগে যদি কেউ কেউ, ভাড়া বাড়িয়ে দেন, হয়রান হন, তাহলে এটাও তো রাজ্য সরকার যখন জানেন ট্রেন বন্ধ রাখতে হচ্ছে তাহলে তো বিপুল মানুষ বিপদে পড়ছেন এবং জরুরী ক্ষেত্রে যেতে হচ্ছে তো যাবেন কীসে? সেই সময় তারা যাতে এক্সপ্লয়েটেড না হন, শোষিত না হন, ঘুরিয়ে তাদের ওপরে তোলাবাজি না হয় সেই মনিটরিংটা তো পরিবহন ব্যবস্থার ওপর রাজ্য সরকারের রাখা উচিত ছিল।’
অন্যদিকে মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রতি বিজেপি সরকারের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ প্রথমেই দুষলেন বামফ্রন্ট সরকারকে। তিনি বললেন, ‘বামফ্রন্ট সরকার কোন সম্মান দেয়নি। এমনকি তাঁর মরদেহ পর্যন্ত রবীন্দ্র সদনে রাখতে দেওয়া হয়নি। সিপিএমের বড় কর্তাদের তাঁদের ফতোয়া।’
এরপরেই তৃণমূল আমলের ভূয়সী প্রসংশা করে কুণাল ঘোষ বললেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলার মনীষীদের, বাংলার কৃতীদের এবং মহানায়ক উত্তম কুমারকেও কত ভাবে সম্মান দেওয়া যায়, তাঁর নামে পুরস্কার চালু থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের এবং এই সংস্কৃতির ক্ষেত্রে, শিল্প, সংস্কৃতি, বিনোদন, সিরিয়াল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পরপর পরিকাঠামোগত উন্নতি এবং আনুষাঙ্গিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে এই সরকার তারপরে যদি কোন কিছু করেন, করতেই পারেন তাদের বিষয়।’













