‘আমার নিজের জীবনেও যন্ত্রণার অনুভূতি আছে’! মায়ের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী

Published on:

Published on:

CM Suvendu Adhikari shares his mother Gayatri Devi experience during partition
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ হিন্দু পরিচয়ের জন্য তাঁর মাকে সহ্য করতে হয়েছে চরম কষ্ট। এবার মা গায়ত্রী দেবীর (Gayatri Devi) অভিজ্ঞতার কথা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার কেষ্টপুরে একটি গণেশ পুজোর উদ্বোধনে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। সেখানে সনাতনী সংস্কৃতির কথা বলতে গিয়ে দেশভাগের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী।

মা গায়ত্রী দেবীর অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী | (Suvendu Adhikari)

এদিন কেষ্টপুরের গণেশ পুজোয় উপস্থিত হয়ে পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারকে একযোগে নিশানা করেন শুভেন্দু। তিনি দাবি করেন, বাম আমল ও তার পরবর্তী তৃণমূল আমলে ধর্মীয় সংস্কৃতিকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়নি। দেশভাগ এবং পশ্চিমবঙ্গের ভারতভুক্তির কথাও ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ আধার কার্ডের ঠিকানা বদলাতে কী কী নথি লাগে? বাড়ি বসে কীভাবে বদলাবেন জানুন

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিভীষিকাময় দেশভাগ আমাদের প্রচুর ক্ষতি করেছে। ওপার বাংলার চিন্ময় প্রভুর কান্না সারা পৃথিবীর সনাতনীদের মনে নাড়া দিয়েছে। আমি ওই দৃশ্য দেখতে দেখতে ভেবেছি, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের মাধ্যমে আমাদের যদি ভারতভুক্তি না হত তাহলে আমাদের পরিস্থিতিও চিন্ময় প্রভুর মতোই হত।“

এরপরেই নিজের মায়ের অভিজ্ঞতার কথা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন শুভেন্দু। তিনি জানান, শুধুমাত্র হিন্দু পরিচয়ের কারণে তাঁর মাকেও ওপার বাংলা থেকে এক কাপড়ে পালিয়ে আসতে হয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমার নিজের জীবনে যন্ত্রণার অনুভূতি রয়েছে। শুধুমাত্র হিন্দু পরিচয়ে আমার মাকেও ওপার বাংলার বরিশাল থেকে বাবার হাত ধরে এক কাপড়ে পালিয়ে আসতে হয়েছিল। আর আমাদের ৩৪ বছরে শাস্ত্র, পঞ্জিকা, আরতি ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।“

suvendu Adhikari

এদিন বামেদের নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “ওরা দুর্গাপুজো লিখবে না। মহালয়া শুনবে না। মণ্ডপে মাকে আরতি করবে না। হাতে ফুল নিয়ে মন্ত্র বলবে না।“

এছাড়া এদিন পিতৃপক্ষে পুজোর উদ্বোধন ও নানা রীতিনীতি নিয়েও বড় বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পিতৃপক্ষে পুজোর উদ্বোধন সনাতনী পরম্পরার পরিপন্থী। এবার থেকে দেবীপক্ষ তথা মহালয়ার দিন থেকেই পুজোর উদ্বোধন হবে। পাশাপাশি অষ্টমীর দিন শুচি-পবিত্র হয়ে মায়ের অঞ্জলি দেওয়ার ঐতিহ্যও ফিরিয়ে আনতে হবে। কেউ যাতে আমাদের ধর্ম, ঐতিহ্য, সংস্কার বদলাতে না পারে, সেই জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আবেদন জানান তিনি।