ঐতিহাসিক রেকর্ড! সর্বকালের সর্বোচ্চে পৌঁছল ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার, চমকে দেবে পরিসংখ্যান

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার (India Forex Reserves) এক নতুন ঐতিহাসিক রেকর্ড স্থাপন করেছে। মূলত, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া তথা RBI (Reserve Bank of India) কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, গত ৪ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ৪৪.৯০৩ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চে ৭৮৫.৭০৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই অভাবনীয় বৃদ্ধির পর, ভারত এখন চিন (China), জাপান ও সুইজারল্যান্ডের পর বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের দেশ হয়ে উঠেছে।

সর্বকালের সর্বোচ্চ পৌঁছল ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার (India Forex Reserves):

কীভাবে হল বাজিমাত: জানিয়ে রাখি যে, বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের এই ঐতিহাসিক বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল RBI-র বিশেষ ‘ডলার-মোবিলাইজেশন প্রোগ্রাম’। এই কর্মসূচি বাজারের সমস্ত প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সপ্তাহে ফরেন কারেন্সি অ্যাসেটস তথা FCA বিস্ময়করভাবে ৪৭.৪৯৮ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৬৪৮.১৬৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে, একই সময়ে গোল্ড রিজার্ভ ২.৫৯৪ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়ে ৩৪.৯৪৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

India forex reserves reach all-time high, statistics will surprise you.

টানা দশম সপ্তাহে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে বৃদ্ধি: উল্লেখ্য যে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার টানা ১০ সপ্তাহ ধরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ১০ সপ্তাহে ভারত মোট ১১৯ বিলিয়ন ডলার যুক্ত করেছে। এই বিশাল ভাণ্ডার RBI-কে মুদ্রা কারেন্সি মার্কেটে কার্যকরভাবে হস্তক্ষেপ করতে এবং ভারতীয় রুপিকে সমর্থন করার জন্য আরও বেশি ক্ষমতা দিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রুপির আরও পতন রোধ করতে এবং বাজারের অস্থিরতা কমাতে RBI গত অগাস্ট মাসে স্পট মার্কেট থেকে ৭.৭ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। তবে এই সময়ে কোনও ডলার কেনা হয়নি।

আরও পড়ুন: লক্ষ্য সংগঠিত সমাজ! সুদূর ব্রিটেনে হিন্দু প্রতিনিধিদের ‘Immersive Dialogue’-এ উপস্থিত মোহন ভাগবত

FCNR-B এবং বিশেষ সোয়াপ সুবিধার ফলাফল: RBI-র বিশেষ ‘ডলার-রুপি সোয়াপ সুবিধা’-র মাধ্যমে এই বিশাল ডলার ভাণ্ডার তৈরি করা সম্ভব হয়। ব্যাঙ্কগুলির মাধ্যমে পরিচালিত এই বিশেষ কার্যক্রমটি মাত্র আড়াই মাসে দেশে ১৩৬.৩৭৭ বিলিয়ন ডলার নিয়ে আসে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ফরেন কারেন্সি নন-রেসিডেন্ট ব্যাংক অর্থাৎ FCNR-B ডিপোজিটের (নন-রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট)। যার মাধ্যমে শুধুমাত্র ভারতেই ১২৭.২২৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছিল।

আরও পড়ুন: আমেরিকার তুলনায় কেন ভারতে দাম বেশি iPhone Duo-র? নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ কারণ

এদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে ভারতের স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস তথা SDR ৪০ লক্ষ ডলার হ্রাস পেয়ে ১৮.৮০৬ বিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চের শেষ থেকে SDR ১ কোটি ৮৪ লক্ষ ডলার এবং গত বছরের তুলনায় ৬৪ লক্ষ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। জানিয়ে রাখি যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল তথা IMF-এর কাছে ভারতের রিজার্ভ ২ মিলিয়ন ডলার বেড়ে ৪৯ মিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে। এটি মার্চের শেষ থেকে ১০৮ মিলিয়ন ডলার এবং পূর্বের বছরের তুলনায় ১৬৮ মিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার মার্চের শেষ থেকে ৯৪.৫৯৯ বিলিয়ন ডলার এবং পূর্বের বছরের তুলনায় ৮৭.৪৩৮ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।