মাথার দাম ৭০ লক্ষ! জঙ্গি মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে ‘ওয়ারেন্ট’ জারি করল পাকিস্তান

Published on:

Published on:

Pakistan has issued a warrant against militant Masood Azhar.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) প্রধান মাসুদ আজহারের (Masood Azhar) বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে তার মাথার দাম ৭০ লক্ষ পাকিস্তানি রুপি ঘোষণা করেছে পাকিস্তান (Pakistan)। পাক ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এফআইএ-র মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসীদের ‘রেড বুক’-এ এই পুরস্কারের উল্লেখ রয়েছে। অক্টোবরে প্যারিস-ভিত্তিক ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর বৈঠকের আগে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। কারণ, ২০২১ সালে এফআইএ-র তালিকায় মাসুদ আজহারের মাথার দাম ছিল ৫০ লক্ষ রুপি। পাঁচ বছর পর সেই পুরস্কারের অঙ্ক আরও ২০ লক্ষ বাড়ানো হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, আজহার দেশ থেকে নিখোঁজ এবং তিনি আফগানিস্তানে রয়েছেন। যদিও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ছয় মাসে তার অবস্থান পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের নবাবশাহ শহরের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে।

জঙ্গি মাসুদ আজহারের (Masood Azhar) বিরুদ্ধে ‘ওয়ারেন্ট’ জারি করল পাকিস্তান:

একই সঙ্গে এফআইএ-র নতুন প্রকাশিত তালিকায় ২৬/১১ মুম্বই হামলার সঙ্গে যুক্ত ১৯ জনের নামও রয়েছে। অভিযোগ, এঁদের কেউ হামলাকারীদের যাতায়াতে সাহায্য করেছিলেন, কেউ অর্থ জুগিয়েছিলেন, আবার কেউ সমুদ্রপথে ব্যবহৃত নৌকার ব্যবস্থা করেছিলেন। তালিকায় ১৭ জনের ছবি এবং হামলায় তাঁদের ভূমিকার উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে তুরবাতের বাসিন্দা মহম্মদ খান এবং বাহাওয়ালনগরের আবদুল রহমানের ক্ষেত্রে আগের তালিকার তুলনায় বেশ কিছু তথ্য আর নেই। মহম্মদ খানের ছবি, লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে তাঁর যোগ এবং মুম্বই হামলায় ভূমিকার বিস্তারিত তথ্য বাদ দিয়ে শুধু নাম রাখা হয়েছে। একইভাবে আবদুল রহমানের ছবি ও সংগঠনের সঙ্গে যোগসূত্রও বর্তমান তালিকায় আর দেখা যাচ্ছে না। ২০২১ সালের তালিকায় অবশ্য তাঁদের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য ছিল (Masood Azhar)।

আরও পড়ুন: Zomato-তে খাবার অর্ডার করেন? ‘এই’ কাজটি করলেই কাটবে অতিরিক্ত চার্জ

২৬/১১-র ঘটনায় সমুদ্রপথে হামলাকারীদের ভারতে পৌঁছে দিতে ব্যবহৃত ‘আল হুসাইনি’ এবং ‘আল ফৌজ’ নামের নৌকার সঙ্গে যুক্ত ১১ জনের নামও রয়েছে এফআইএ-র তালিকায়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মহম্মদ আমজাদ খান, শহীদ গফুর, মহম্মদ উসমান, আতিকুর রহমান, রিয়াজ আহমেদ, মহম্মদ মুশতাক, মহম্মদ নাঈম, আবদুল শাকুর, মহম্মদ সাবির সালফি, মহম্মদ উসমান এবং শাকিল আহমেদ। এর পাশাপাশি হামলায় আর্থিক সাহায্য করার অভিযোগ থাকা আরও ছয়জনের নাম সামনে এসেছে। এফআইএ-র তথ্য অনুযায়ী, ফয়সালাবাদের মহম্মদ ইফতিখার আলি হামলাকারী ও তাদের নিয়ন্ত্রকদের মধ্যে ভিওআইপি যোগাযোগের জন্য ৭০ হাজার রুপি খরচ করেছিলেন। অন্যদের মধ্যে মহম্মদ জিয়া ৮০ হাজার, মহম্মদ আব্বাস নাসির ২ লক্ষ ৫৩ হাজার, জাভেদ ইকবাল ১ লক্ষ ৮৬ হাজার ৪৩০, মুখতার আহমেদ ২ লক্ষ ৯৮ হাজার ৪৭ এবং আহমেদ সাঈদ ২১ লক্ষ রুপি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

এফআইএ-র দাবি, ২৬/১১ হামলার সঙ্গে যুক্ত এই ১৭ জন গত ১৮ বছর ধরে পলাতক। কিন্তু ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, তাঁদের অনেকেই এখনও পাকিস্তানের মাটিতেই রয়েছেন। সেই কারণে এফআইএ-র মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় নাম রেখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠছে, আন্তর্জাতিক মহলের সামনে ব্যবস্থা নেওয়ার ছবি তুলে ধরলেও বাস্তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে FATF-এর বৈঠকের আগে মাসুদ আজহারের পুরস্কারের অঙ্ক বাড়ানো এবং ২৬/১১-র কয়েকজন অভিযুক্তের তথ্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে নজরে এসেছে।

Pakistan has issued a warrant against militant Masood Azhar.

আরও পড়ুন: যুদ্ধের সময়েও কমেনি সাজসজ্জা! ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর চুলের স্টাইল থেকে মেকআপে খরচ ৪ কোটি

এরই মধ্যে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ে আরও একটি পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। ২০২১ সালে এফআইএ-র রেড বুকে পাকিস্তানের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসীর সংখ্যা ছিল ১,৩৩০। পাঁচ বছরের ব্যবধানে সেই সংখ্যা বেড়ে ১,৮০৪ হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি। ফলে একদিকে মাসুদ আজহারের (Masood Azhar) মাথার দাম বাড়িয়ে ৭০ লক্ষ রুপি ঘোষণা, অন্যদিকে ২৬/১১-র সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নাম ফের তালিকাভুক্ত করা—সব মিলিয়ে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে কতটা বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করবে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের অভিযোগ সত্যি হলে, শুধু তালিকায় নাম তোলাই নয়, বাস্তবে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেটিই হয়ে উঠতে পারে পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।