অন্নপূর্ণার টাকা জমিয়ে স্বপ্নপূরণ, প্রথমবার দুর্গাপুজোয় মাতবে ঘাটালের এই গ্রাম

Published on:

Published on:

Women arrange Durga Puja for the first time using funds from Annapurna Yojana
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : দুর্গাপুজোয় এই গ্রামের মানুষকে অন্যত্র ছুটতে হত। নিজের এলাকায় মণ্ডপ, প্রতিমা কিংবা অঞ্জলির ব্যবস্থা ছিল না। সেই অভাব এবার নিজেরাই পূরণ করতে চলেছেন রঘুনাথচকের মহিলারা। সরকারি প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা'(Annapurna Yojana) থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ সঞ্চয় করে তাঁরা শুরু করেছেন গ্রামের প্রথম দুর্গোৎসবের আয়োজন। ইতিমধ্যেই খুঁটিপুজো হয়ে গিয়েছে, শুরু হয়েছে মূল উৎসবের প্রস্তুতিও।

‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র (Annapurna Yojana) টাকা জমিয়ে দুর্গাপুজো মহিলাদের

পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের এই গ্রামে এতদিন কোনও সর্বজনীন দুর্গাপুজো ছিল না। তাই এ বছর আর অন্য জায়গায় গিয়ে পুজো দেখার বদলে নিজেদের এলাকাতেই দেবীকে প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাসিন্দারা। সেই লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে ‘রঘুনাথচক মহামায়া দুর্গোৎসব মহিলা কমিটি’। মহিলাদের নেতৃত্বেই এগোচ্ছে গোটা পরিকল্পনা।

পুজোর খরচ জোগাড়ের ক্ষেত্রেও অভিনব পথ বেছে নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। গ্রামে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পান এমন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন মহিলা রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের মাসিক ৩ হাজার টাকা করে পাওয়ার মধ্যে থেকেই কিছু অর্থ পুজোর তহবিলে দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও চাঁদা তোলার কাজ চলছে।

শুধু মহিলারাই নন, এই উদ্যোগে তাঁদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন গ্রামের পুরুষরাও। পুজোর বিভিন্ন কাজ সামলানো থেকে শুরু করে আয়োজনকে সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরাও সহযোগিতা করছেন। উদ্যোক্তাদের আশা, গ্রামের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রথম বছরেই উৎসবটি বড় আকারে করা সম্ভব হবে।এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের কাছেও সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি সহযোগিতা মিললে পুজোর আয়োজন আরও ভালোভাবে করা যাবে। আপাতত নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ সংগ্রহ করেই প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

Women arrange Durga Puja for the first time using funds from Annapurna Yojana

আরও পড়ুন : Zomato-তে খাবার অর্ডার করেন? ‘এই’ কাজটি করলেই কাটবে অতিরিক্ত চার্জ

গ্রামের এক মহিলার কথায়, “আমাদের সামনা-সামনি কোথাও দুর্গাপুজো ছিল না। অনেক দূরে যেতাম অঞ্জলি দিতে। সেই কারণে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা জমিয়ে আমরা এই পুজো করছি।” রঘুনাথচকের বাসিন্দাদের কাছে তাই এবারের শরৎ একেবারেই আলাদা। এতদিন যে উৎসবের জন্য গ্রামের বাইরে যেতে হত, এবার সেই দুর্গোৎসবই প্রথমবারের মতো তাঁদের নিজেদের পাড়ায়।