বাংলা হান্ট ডেস্ক : বাংলার (West Bengal) অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে এতদিন শিল্প, পরিষেবা, তথ্যপ্রযুক্তি কিংবা পর্যটনের মতো ক্ষেত্রগুলিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সম্প্রতি রাজ্যের ভবিষ্যৎ বদলের আর একটি সম্ভাব্য পথের খোঁজ মিলেছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে অনুসন্ধানে যে খনিজ সম্পদের সন্ধান মিলছে, তাতে নতুন করে সামনে এসেছে রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা।
পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) খোঁজ মিলছে প্রাকৃতিক সম্পদের
উত্তর ২৪ পরগনায় অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় পাওয়া গিয়েছে একাধিক বিরল খনিজের অস্তিত্ব। এবার ঝাড়গ্রামের বেশ কিছু এলাকায় ম্যাঙ্গানিজের সম্ভাবনা যাচাই করতে নামছে একাধিক সরকারি সংস্থা। এর পাশাপাশি বাংলার পুরনো কয়লা ও ফায়ার ক্লের ভাণ্ডারও রয়েছে। এই তালিকায় সবচেয়ে বড় অগ্রগতি ঘটেছে অশোকনগরে।
উত্তর ২৪ পরগনার বাইগাছি এলাকায় ONGC যে তেলক্ষেত্রের সন্ধান পেয়েছিল, সেখান শুরু হয়েছে বাণিজ্যিক উৎপাদন।
২০১৮ সালে ওই এলাকায় তেলের সন্ধান পাওয়ার পর বেশ কয়েক বছর ধরে নানা পর্যায়ের পরীক্ষা, পরিকাঠামো তৈরি এবং অন্যান্য প্রস্তুতি চালানো হয়। সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২৮ আগস্ট থেকে বাণিজ্যিক ভাবে অপরিশোধিত তেল উত্তোলন শুরু হয়েছে।
অশোকনগর প্রকল্পে বর্তমানে মোট ছটি কূপ রয়েছে। চারটি কূপ তেল উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্য দুটি প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্গে যুক্ত। ফলে প্রকল্পটি, ভবিষ্যতে বৃহত্তর জ্বালানি সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার বেশ কিছু জায়গায় ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বিরল খনিজের সম্ভাবনা।
সংসদে এই বিষয়ে তথ্য তুলে ধরেছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরুলিয়ার একটি ব্লকে প্রায় ১.৭৮ লক্ষ টন আকরিকের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সেই আকরিকে রয়েছে ০.৪ শতাংশ সিজিয়াম, ০.৩ শতাংশ লিথিয়াম এবং ০.০১ শতাংশ রুবিডিয়াম। পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া মিলিয়ে আরও ১০টি বিরল খনিজ প্রকল্প এখন গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন : পুজোর আগেই দলবদলের হাওয়া! একসঙ্গে ৫০ জন তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিলেন কংগ্রেসে
পশ্চিমবঙ্গের তিন প্রান্তে তিন ধরনের খনিজ সম্ভাবনা এখন আলাদা করে নজর কাড়ছে। অশোকনগরে তেল উত্তোলনের কাজ ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। পুরুলিয়া-বাঁকুড়ায় বিরল খনিজ নিয়ে চলছে আরও অনুসন্ধান ও গবেষণা। আর ঝাড়গ্রামে ম্যাঙ্গানিজের অস্তিত্ব যাচাইয়ের প্রাথমিক কাজ শুরু হতে চলেছে। সঠিক পরিকল্পনা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই সম্পদ কাজে লাগানো গেলে বাংলার অর্থনীতিতে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। বাংলার সাম্প্রতিক খনিজ অনুসন্ধান, বাস্তবে কতটা অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয় এখন সেটাই দেখার।













