বাংলাহান্ট ডেস্ক: প্রবল হড়পা বানের (Nepal Flash Floods) ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেনি নেপাল (Nepal)। তাই ফের প্রতিবেশী বন্ধুকে সাহায্য করতে এগিয়ে এল ভারত (India)। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রাণহানি ও পরিকাঠামোর ক্ষতির পাশাপাশি বড় ধাক্কা লেগেছে দেশের জলবিদ্যুৎ ক্ষেত্রেও। একের পর এক হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে সামনে এসেছে নতুন সমস্যা—বিদ্যুতের ঘাটতি। কোন প্রকল্প কবে ফের স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী নেপালের পাশে দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। কেন্দ্র জানিয়েছে, আপাতত ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত বিদ্যুৎ দিয়ে নেপালের এই সঙ্কট সামাল দিতে সাহায্য করবে নয়াদিল্লি।
নেপালে ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের সিদ্ধান্ত ভারতের (India)
গত ২৬ অগস্ট নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় আচমকাই হড়পা বান নামে। ভোটেকোশি নদীর জল ফুলেফেঁপে ওঠায় তার ভয়াবহ প্রভাব পড়ে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায়। বিশেষ করে তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি রাসুয়া, নুয়াকোট এবং ধাদিঙ্গে জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল বেশি। বহু জায়গায় রাস্তা, সেতু ও অন্যান্য পরিকাঠামোর পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নেপালের প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ের জেরে অন্তত ১২টি হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কবে ফিরবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আর সেই কারণেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে নেপালের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় (India)।
বন্যা ও হড়পা বানের পর নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ভারত। উদ্ধার ও ত্রাণের পাশাপাশি এবার বিদ্যুৎ সঙ্কটেও সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রকের তরফে সোমবার জানানো হয়েছে, ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত নেপালকে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। প্রতিদিন প্রায় ১৮ ঘণ্টা এই বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু থাকবে। অর্থাৎ, নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়তে থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেশী দেশের জরুরি পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ দিয়ে সাহায্য করার পথে হাঁটছে ভারত। নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে যতটা সময় লাগবে, সেই সময়ের মধ্যে এই সরবরাহ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মুজফ্ফরপুর-ঢালকেবর ৪০০ কেভি আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৬০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ নেপালকে দেওয়া যাবে। এর পাশাপাশি তানকপুর-মহেন্দ্রনগর ১৩২ কেভি লাইনের মাধ্যমেও আরও ৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৬৫৪ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাঠানোর সুযোগ থাকছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রতিদিন মধ্যরাত থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। এর ফলে দিনের বড় একটি সময়ে নেপালের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:ভারতের আর একটি সহজ হয়ে অবশেষে ফর্মে ফিরলেন সঞ্জু স্যামসন! ছুঁয়ে ফেললেন রোহিত শর্মাকে
তবে ডিসেম্বরের পর পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, তা এখনই চূড়ান্ত নয়। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রক জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে নেপালকে কতটা বিদ্যুৎ দেওয়া হবে, তা ডিসেম্বর মাসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কারণ একদিকে নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি দ্রুত মেরামত করে উৎপাদনে ফেরানোর চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে ভারতের অভ্যন্তরেও বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। ফলে আগামী কয়েক মাসে দুই দেশের প্রয়োজন ও পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত অবশ্য বিপর্যস্ত প্রতিবেশীর বিদ্যুৎ সঙ্কট কাটাতে পাশে থাকার বার্তাই দিয়েছে ভারত (India)।













