শত্রুর ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করবে ভারত! পোখরানে বায়ুসেনার অত্যাধুনিক UTM সিস্টেমের সফল পরীক্ষা

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশীয় ড্রোন প্রযুক্তিকে আরও শক্তিশালী করার পথে এগোচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force)। যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু সেনা বা প্রচলিত অস্ত্র নয়, প্রযুক্তির ব্যবহারই অনেক সময় লড়াইয়ের গতিপথ ঠিক করে দিচ্ছে। সেই তালিকায় মানববিহীন ড্রোন এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। নজরদারি থেকে শুরু করে শত্রুর অবস্থান শনাক্ত করা কিংবা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত—বিভিন্ন কাজেই ড্রোনের ব্যবহার বাড়ছে। এই পরিবর্তিত যুদ্ধপরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই দেশীয় ড্রোন প্রযুক্তিকে আরও শক্তিশালী করার পথে এগোচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনা। তারই ছবি দেখা গেল রাজস্থানের পোখরান ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে আয়োজিত ‘IAF Dronathon-2026’-এ। ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই তিন দিনের প্রদর্শনী চলবে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সোমবার অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত।

পোখরানে বায়ুসেনার (Indian Air Force) অত্যাধুনিক UTM সিস্টেমের সফল পরীক্ষা

এই আয়োজনের লক্ষ্য শুধু নতুন নতুন ড্রোনের প্রযুক্তি প্রদর্শন নয়। যুদ্ধক্ষেত্রে বাস্তবে কতটা কার্যকর হতে পারে এই প্রযুক্তি, সেটিই এখানে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কোনও মানববিহীন ব্যবস্থা কত দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে পারে এবং পরিস্থিতি বদলে গেলে সেই অনুযায়ী নিজের কার্যপদ্ধতি পরিবর্তন করতে পারে—পোখরানে তারই পরীক্ষা চলছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি সেনা ও বিএসএফের উচ্চপদস্থ কর্তাদের উপস্থিতিতে এই আয়োজন আরও তাৎপর্য পেয়েছে। ২০টিরও বেশি দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা, স্টার্ট-আপ, এমএসএমই এবং ডিপিএসইউ এই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে (Indian Air Force)।

আরও পড়ুন:বই পড়ুন, টাকা কামান! রিলস-আসক্তি কমাতে এই দেশের অভিনব উদ্যোগে চমক

প্রদর্শনীতে নজর রয়েছে একাধিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উপর। নজরদারি ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় ড্রোন অপারেশন, সোয়ার্ম টেকনোলজি, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম—সবকিছুরই প্রদর্শন হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর কী ধরনের ড্রোন প্রয়োজন হতে পারে, সে সম্পর্কেও দেশীয় সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনীয় দিশা দেওয়ার চেষ্টা করছে বায়ুসেনা। আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যকে সামনে রেখে শুধু ড্রোনের কাঠামো বা এয়ারফ্রেম তৈরি করাই নয়, তার ইঞ্জিন, সেন্সর, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতেও দেশীয় গবেষণা ও উৎপাদন বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

পোখরানের এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ বায়ুসেনার নিজস্ব মাল্টি-মোড ‘আনম্যানড ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্ট’ বা UTM সিস্টেম। সোমবারই এই ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বায়ুসেনা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একইসঙ্গে সামরিক এবং বেসামরিক ড্রোনের গতিবিধি নজরে রাখা সম্ভব। শুধু একটি বা দু’টি নয়, একসঙ্গে বহু ড্রোনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাও রয়েছে এই ব্যবস্থার। পাশাপাশি আকাশপথে কোনও শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত হলে সেটিকে চিহ্নিত করে মোকাবিলার ব্যবস্থাও করা যাবে। ফলে ভবিষ্যতে আকাশপথে ড্রোনের সংখ্যা বাড়লে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

Successful test of the state-of-the-art UTM system of Indian Air Force at Pokhran.

আরও পড়ুন:হরমুজে সঙ্কট, মান্দেবেও হুথিদের দাপট! জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কি বলছে ভারত?

বায়ুসেনার (Indian Air Force) মতে, ড্রোনকে আর শুধুমাত্র অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রদর্শনী হিসেবে দেখার সময় নেই। যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এই মানববিহীন ব্যবস্থার। তাই ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য এখন থেকেই দেশীয় প্রযুক্তিকে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। পোখরানের ‘IAF Dronathon-2026’ সেই প্রস্তুতিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ, যেখানে একইসঙ্গে প্রযুক্তির পরীক্ষা, শিল্প সংস্থাগুলির সক্ষমতা যাচাই এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজন নির্ধারণের কাজ চলছে। নজরদারি থেকে সোয়ার্ম অপারেশন কিংবা শত্রুর ড্রোন মোকাবিলা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনা যে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে, তা স্পষ্ট।