বামেরা ভরসা বুকস্টল! তৃণমূলের প্রতীকেও অনীহা মানুষের, সাক্ষাৎকারে জোড়া তোপ দিলীপ ঘোষের

Published on:

Published on:

Dilip Ghosh Slams Both CPIM and TMC
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। এপ্রসঙ্গে এদিন বিরোধী শিবিরকে একেবারে চাচা ছোলা ভাষায় আক্রমণ শোনালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর সাফ কথা, ‘এটা নিয়ে সাধারণ মানুষের কোন আগ্রহ নেই আমাদেরও কোন আগ্রহ নেই। টিএমসির প্রতীক কে পাবে? ওই প্রতীক সবাই রিজেক্ট করেছে। এখন ওনারা ওই প্রতীক ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন। নির্বাচন কমিশনের হাতে সমস্ত ব্যাপার রয়েছে ওনারাই সব দেখবেন।’

তৃণমূল কোনদিনই প্রভাবেই ছিল না : দিলীপ ঘোষ

উপনির্বাচনে মমতার (Mamata Banerjee) রাষ্ট্র সমঝোতার প্রস্তাব ধোপে টেকেনি। এই প্রস্তাব মেনে নেয়নি কংগ্রেস। তাই প্রশ্ন উঠছে ইন্ডিয়া জোটের প্রধান শরিক কংগ্রেসে তাহলে এরাজ্যের কালীঘাট তৃণমূলকে চাইছে না? ফের সংঘাত দু’জনের মধ্যে? এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, ‘সময় খারাপ, হলে এটা হয়। আর উনি সবার সঙ্গে যেরকম ব্যবহার করেছেন এই সময় ওনার কাছে কে আসবে? কংগ্রেসের সঙ্গে উনি কি ব্যবহার করেছেন! কাকে ছেড়েছেন উনি? তো এবার তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে।’

রাজ্যে পরাজয়ের পর এমনিতেই তৃণমূলের রাজ্যে রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা কমে গিয়েছিল, আর এবার ইন্ডিয়া জোট থেকে সরে যাওয়ার পর জাতীয় রাজনীতিতে এবার কি আরও কোণঠাসা হল তৃণমূল? এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ সেদিন বললেন, ‘তৃণমূল কোনদিনই প্রভাবেই ছিল না উনি বড় বড় হাঁক-ডাক করতেন। কেউ, ওনাকে ডাকতো না, কোথাও যেত না। এত জায়গায় ইলেকশন হল ওনার কি রোল ছিল সারা ভারতবর্ষে বিধানসভা নির্বাচন হলো পাঁচখানা। উনি নিজেও হারলেন ওনার পার্টিও হারলেন। কোন রাজ্যে উনি গেছেন ?নাকি কেউ এসেছেন এখানে। সেই জন্য এগুলো তার কারণে এই হাঁকডাক করে মিডিয়া গরম করা।’

আরও পড়ুনঃ উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের রুটিনে ফের বদল! নয়া সূচি প্রকাশ করল সংসদ

একইসঙ্গে তিনি এদিন দাবী করেছেন, ‘পাবলিক জানেন কি করতে হবে তারা ঠিক কাজ করছেন। ভারতবর্ষের লোক কোন এদিক-ওদিক তাকাতে চায় না। মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়ে থাকে, কিন্তু তারা দেখেছেন দুনিয়াতে ভারতের স্থান কোথায় এবং কার জন্য। মোদীজির জন্য এবং তাঁর পাশেই  জনতা রয়েছেন।’

গুন্ডা দমনের পর এবার তোলাবাজি রুখতে আইন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা এদিন বললেন, ‘তোলাবাজি ব্যাপারটা পশ্চিমবঙ্গের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে, সামাজিক ব্যাধি হয়ে গেছে, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সেই সঙ্গে যারা অসামাজিক বা অ্যান্টি সোশ্যাল তারাও এটার সুযোগ নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে লুটপাট করছে সাধারণ জনতা, ব্যবসায়ী, ইন্ডাস্ট্রিজ পুরো পীড়িত। এর ব্যাপক পরিবর্তন দরকার, বন্ধ করার দরকার। এর জন্য আইনও দরকার আছে। এবং প্রশাসনকেও কড়া হতে হবে। আর এটা অমরা করবো।’

প্রসঙ্গত পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনে এবার আর কংগ্রেসের সাথে বামেরা কোন জোট বাঁধেনি। তৃণমূলও দুটো তৃণমূল। কোথাও কি উপনির্বাচনে বিজিপির জয়ের মার্জিন বাড়বে? উত্তরে দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানালেন, ‘দেখুন পশ্চিমবাংলায় উপনির্বাচন হচ্ছে, বিরোধীদের এমন অবস্থা যে পাগড়ি বাঁধতে বাঁধতে যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। আর যুদ্ধে কে জিতবে সেটা নিশ্চিত আছে। জনতা পেছনে তাকাতে রাজি নয় সুতরাং বাংলায় বিজেপিকেই জেতাবে।’

আরও পড়ুনঃ সেপ্টেম্বরের টাকা ছাড়তে ২ দিন বাকি! তার আগেই অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে নতুন আপডেট মুখ্যমন্ত্রীর

বামেদের বুকস্টল নিয়ে বারবার আক্রমণ হয়েছে। এবার বিশ্বকর্মার পুষ্পাঞ্জলিতে বামেদের আহ্বান শুভেন্দু অধিকারীকে। কোথাও গিয়ে কি এবার রাজ্য রাজনীতিতে বামেরা প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাচ্ছে? এপ্রসঙ্গে বামেদের কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ এদিন বললেন, ‘আমি জানি না, বামেরা যদি এই বুক স্টলকে কেন্দ্র করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন তাহলে সেটা বেশিদিন চলবে না। রাজনীতি মাঠে করতে হয়, জনতার জন্য করতে হয়, একদিন ওনারাও রাজনীতিতে কম ধোকা দেননি। সারা বিশ্বে হিংসা আর খুন খারাপ ছাড়া কিছুই দেননি। যে দেশে ক্ষমতায় থেকেছেন সেই দেশের মানুষকে সবচেয়ে বেশি পীড়ন করেছেন, হত্যা করেছেন, হিংসা করেছেন। তো তারা ওখান থেকে বিসর্জন দিয়েছে। এবারে পশ্চিমবাংলাতেও তাই হয়েছে। সেই জন্য ওনারা ভাবছেন যে একটা গ্যাপ তৈরি হয়েছে, ঝাঁপিয়ে পড়বেন। ঝোপ বুঝে, কোপ মারছেন। ওটা হবে না।’