হরমুজে সঙ্কট, মান্দেবেও হুথিদের দাপট! জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কি বলছে ভারত?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: হরমুজ সঙ্কটের জেরে  বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে চিন্তা বাড়িয়েছে লোহিত সাগরের (Red Sea) প্রবেশপথে অবস্থিত বাব-আল-মান্দেব প্রণালী (Bab Al-Mandab)। এবার এই নিয়ে মুখ খুলল ভারতও  (India)। ইয়েমেনের হাউথি গোষ্ঠীর হামলার জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তবে এই উদ্বেগের মধ্যেই ভারতীয়দের জন্য স্বস্তির বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি। বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, হাউথি হামলার আবহেও বাব-আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ এখনও অব্যাহত রয়েছে।

বাব-আল-মান্দেব সঙ্কটে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে কি বলল ভারত (India)?

মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে ভারতের (India) অবস্থান স্পষ্ট করেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি জানান, সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে বেসামরিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার নিন্দা করেছে ভারত। একইসঙ্গে লোহিত সাগর ও তার আশপাশের অঞ্চলে পরিস্থিতির অবনতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সাউদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে হাউথি হামলা ছাড়াও পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতের বক্তব্য, এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি বাব-আল-মান্দেব দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচলের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন: হড়পা বানে ধ্বংস একের পর এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প! ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের সিদ্ধান্ত ভারতের

বাব-আল-মান্দেবের গুরুত্ব বোঝা যায় বিশ্ব বাণিজ্যের দিকে তাকালেই। লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এই সরু জলপথটি একদিকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে লোহিত সাগরকে যুক্ত করেছে, অন্যদিকে সুয়েজ খালের মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরোপের বাণিজ্যিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে এই পথে কোনও বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে শুধু জাহাজ চলাচল নয়, তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহণের উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে যখন ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে, তখন মান্দেবেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সৌদি আরবের ক্ষেত্রেও এই জলপথের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। লোহিত সাগরের প্রবেশপথের এই রুটকে ব্যবহার করে দেশটি তেল পরিবহণের ক্ষেত্রে একটি বিকল্প সমুদ্রপথের সুবিধা পেয়ে থাকে। ফলে হাউথিদের হামলা যদি বাব-আল-মান্দেব এলাকায় জাহাজ চলাচলকে বড় আকারে প্রভাবিত করে, তাহলে সৌদি আরব-সহ একাধিক দেশের জ্বালানি পরিবহণ ব্যবস্থা চাপে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই রুটের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি এশিয়া থেকে ইউরোপের দিকে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও মান্দেব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু পশ্চিম এশিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

What did India say regarding the fuel situation amidst the Bab-el-Mandeb crisis?

আরও পড়ুন: শিশুদের জন্য ক্ষতিকর কনটেন্টের তথ্য যাবে সরকারের কাছে, কেন্দ্রের কড়া বার্তায় অবশেষে মেটার নতিস্বীকার!

এই পরিস্থিতিতে ভারতের (India) বার্তা তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, হাউথি হামলা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বাব-আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ এখনও চলছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হলেও আপাতত ভারতের জ্বালানি আমদানিতে এই রুটের কারণে কোনও বড় বাধার কথা জানানো হয়নি। তবে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। হরমুজ ও মান্দেব—দুই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ঘিরেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে যায় এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহে তার কতটা প্রভাব পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের।