করতেন ৬,৫০০ টাকা বেতনের চাকরি! আজ ৮০ কোটির ব্যবসার মালিক, কঠোর পরিশ্রমে বাজিমাত যোগেশের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মাসে মাত্র ৬,৫০০ টাকা বেতন দিয়ে শুরু হয়েছিল কর্মজীবন। আজ সেই যোগেশ শর্মাই (Yogesh Sharma) ভারতের (India) পরিচিত সফল (Success Story) ফাইন-ডাইনিং ব্র্যান্ড ‘কারিগরী’-র মালিক ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর। ব্যবসায়িক সাফল্যের এই সফরে তাঁর সঙ্গী দেশের অন্যতম জনপ্রিয় শেফ হরপাল সিং সোখি। বর্তমানে একাধিক বড় শহরে ছড়িয়ে থাকা ‘কারিগরী’-র বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৮০ কোটি টাকা। তবে এই জায়গায় পৌঁছনোর পথটা মোটেই সহজ ছিল না। চাকরি করার পাশাপাশি ব্যবসার স্বপ্ন দেখা, ছোট ক্যাফে দিয়ে শুরু করা, একের পর এক রেস্তোরাঁ তৈরি করা এবং পরে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের ফাইন-ডাইনিং ব্র্যান্ড গড়ে তোলা—যোগেশের গল্পে রয়েছে ধৈর্য, ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা এবং নতুন কিছু করার চেষ্টা।

যোগেশ শর্মার অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

দিল্লির সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা যোগেশ পড়াশোনা শেষ করে পুনের সিম্বায়োসিসে বিজনেস অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজমেন্টের কোর্স করেন। ২০০৭ সালে মুম্বইয়ে মাসিক ৬,৫০০ টাকা বেতনে মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু চাকরি তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল না। নিজের ব্যবসা করার ইচ্ছা থেকেই ২০১০ সালে বাবার কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে মুম্বইয়ে মাত্র ২০ আসনের একটি ক্যাফে খোলেন। দিনের বেলা চাকরি এবং সন্ধ্যার পর ক্যাফে—এইভাবেই চলত তাঁর জীবন। ছোট সেই ব্যবসাই তাঁকে খাদ্য ও রেস্তোরাঁ শিল্পের বাস্তব অভিজ্ঞতা দেয়। কীভাবে গ্রাহকদের পছন্দ বুঝতে হয়, খরচ সামলাতে হয় এবং একটি খাবারের ব্যবসাকে ধীরে ধীরে বড় করতে হয়, সেই শিক্ষা তিনি সেখানেই পান (Success Story)।

আরও পড়ুন: হয়ে যান সতর্ক! নিজের নামের SIM অন্যকে ব্যবহার করতে দিলেই হতে পারে জেল, জারি নির্দেশিকা

মুম্বইয়ের অভিজ্ঞতার পর দিল্লিতে ফিরে নতুন করে ব্যবসা শুরু করেন যোগেশ। তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখে কালকাজি, লক্ষ্মী নগর এবং ইডিয়াম মলে তিনটি রেস্তোরাঁ তৈরি করেন। তাঁর উদ্যোগগুলি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায় এবং সেগুলি থেকে মাসিক আয়ও উল্লেখযোগ্য জায়গায় পৌঁছয়। এরপর থিম-ভিত্তিক রেস্তোরাঁ পরিচালনাকারী ‘জঙ্গল জ্যাম্বোরি’-র ৬৭ শতাংশ শেয়ারও অধিগ্রহণ করেন তিনি। কিন্তু সাফল্য পাওয়ার পরেও একই পথে এগিয়ে যেতে চাননি যোগেশ। ২০১৫ সালের মধ্যে ওই ব্যবসাগুলি থেকে বেরিয়ে এসে তিনি নতুন পরিকল্পনা করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল শুধু তরুণদের জন্য রেস্তোরাঁ নয়, বরং পরিবারকে কেন্দ্র করে এমন একটি ডাইনিং ব্র্যান্ড তৈরি করা, যেখানে খাবারের পাশাপাশি অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এই নতুন ভাবনার বাস্তব রূপ পায় কোভিডের আগের সময়ে শেফ হরপাল সিং সোখির সঙ্গে যোগেশের পরিচয়ের পর। দু’জনেরই লক্ষ্য ছিল ভারতীয় খাবারকে গল্প ও সৃজনশীলতার সঙ্গে উপস্থাপন করে পারিবারিক ভোজনের জন্য একটি আলাদা জায়গা তৈরি করা। লকডাউনের সময়টাকেই তাঁরা গবেষণা ও পরিকল্পনার কাজে ব্যবহার করেন। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে নয়ডার সেক্টর ৫১-এ প্রথম ‘কারিগরী’ রেস্তোরাঁ চালু হয়। গল্পনির্ভর খাবার এবং শেফদের নামে নাম দেওয়া বিভিন্ন পদ দ্রুত নজর কাড়ে। গ্রাহকদের সাড়া পেয়ে ব্র্যান্ডটি ধীরে ধীরে নয়ডার গণ্ডি পেরিয়ে গুরুগ্রাম, দিল্লি, চণ্ডীগড়, ইন্দোর ও বেঙ্গালুরুতেও পৌঁছে যায়।

Success Story of Yogesh Sharma will amaze you.

আরও পড়ুন: মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে সাসপেন্ড অধ্যাপক! ছাত্রের মৃত্যুর বিবৃতি প্রসঙ্গে ক্ষমা চাইল IIT বোম্বে

বর্তমানে ‘কারিগরী’-র ১২টিরও বেশি বড় আউটলেট রয়েছে এবং ব্যবসাটি FOCO অর্থাৎ Franchise Owned, Company Operated মডেলেও সম্প্রসারিত হচ্ছে। একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি চালু করতে প্রায় ৪ কোটি টাকা সেটআপ খরচ এবং ৭ শতাংশ রয়্যালটির কাঠামো রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শেফ হরপালের নেতৃত্বে ২০০-র বেশি শেফের দল এবং মোট ৫০০-র বেশি কর্মী এই ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত। ২০২২ সালে প্রায় ২৫ কোটি টাকা টার্নওভার দিয়ে শুরু করা ব্যবসাটি বর্তমানে প্রায় ৮০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং সংস্থাটি প্রি-আইপিও পর্যায়েও এগিয়েছে। নিজের সাফল্যের রহস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যোগেশের বক্তব্য, ব্যবসায় দ্রুত সাফল্য পাওয়ার কোনও শর্টকাট নেই। পরিশ্রম, ধৈর্য, সঠিক হিসাব-নিকাশ এবং নিজের কাজের প্রতি আবেগ—এই চারটিকেই তিনি দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের মূল ভিত্তি বলে মনে করেন (Success Story)।