পুরভোটে কাদের টিকিট দেবে দল? জানিয়ে দিলেন নীতিন নবীন

Published on:

Published on:

Nitin Nabin revealed whom will the party give tickets for Municipal Election
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : সামনে উপনির্বাচন, তার পর রাজ্যে পুরভোট। তার আগে রাজ্য বিজেপির সংগঠনকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যেই বঙ্গ সফরে এসে দলীয় নেতা-কর্মীদের বেশ কিছু বিষয়ে সতর্ক করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Nabin)। পুরভোটে প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে বিধায়কদের জনসংযোগ, এমনকি দুর্গাপুজোর কমিটির সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রেও কী ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন, বৈঠকে তারই দিকনির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে নীতিনের সফর ঘিরে দলের অন্দরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

বিজেপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নীতিন নবীন (Nitin Nabin)

দুর্গাপুজোর মরশুমে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন এবং পরবর্তী পুরভোট- নিয়ে রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ছে। সেই আবহে দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে একাধিক বিষয়ে নিজের বার্তা স্পষ্ট করেন নীতিন নবীন। পুরভোটের প্রার্থী বাছাই নিয়ে তাঁর বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই যে নির্বাচনে টিকিট নিশ্চিত হবে, তা নয়—প্রার্থী বাছাইয়ে দলের বিবেচনাই শেষ কথা বলে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি।

নীতিন নবীনের কথায়, “দল যাঁদের যোগ্য মনে করবে, তাঁরাই পুরভোটে টিকিট পাবেন।” ফলে শুধুমাত্র পুরনো কর্মী বা দীর্ঘদিনের দলীয় পরিচয় নয়, ভোটের লড়াইয়ে প্রাসঙ্গিক যোগ্যতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিধায়কদের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট নির্দেশ। কোনও বিধায়ক পুরভোটে লড়াই করার আগ্রহ প্রকাশ করলে তাঁকে শুধুমাত্র প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা না করে দলের সাংগঠনিক কাজে আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং দলের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উপরেই জোর দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি।

এ দিনের বৈঠকে জনসংযোগের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিধায়কদের নিয়মিত সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি নিয়েও সতর্ক থাকার কথা বলেছেন। বিশেষ করে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তোলার ক্ষেত্রে বাড়তি সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারও সঙ্গে ছবি তোলার আগে তাঁর পরিচয় এবং কোনও বিতর্কিত বা অপরাধমূলক যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে অন্তত প্রাথমিকভাবে খোঁজ নেওয়া উচিত বলে দলীয় নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে। কারণ পরবর্তীতে সেই ব্যক্তিকে ঘিরে কোনও অভিযোগ সামনে এলে পুরনো ছবি নিয়েও অস্বস্তিতে পড়তে পারেন সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি।

দুর্গাপুজো নিয়েও বিধায়কদের জন্য রয়েছে আলাদা বার্তা। স্থানীয় পুজো কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা বা পুজোর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি নেই। তবে কোনও কমিটিতে সভাপতি কিংবা অন্য কোনও পদ পাওয়ার জন্য রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো যাবে না। কোনও পুজো কমিটি নিজেদের সিদ্ধান্তে কোনও বিজেপি নেতা বা বিধায়ককে দায়িত্ব দিতে চাইলে তা গ্রহণ করা যেতে পারে। কিন্তু সেই দায়িত্ব পাওয়ার জন্য কমিটির উপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

Nitin Nabin revealed whom will the party give tickets for Municipal Election

আরও পড়ুন : জেড প্লাস নিরাপত্তা তুলে নিয়েছে রাজ্য! সোজা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

নীতিন নবীনের বঙ্গ সফরে শুধু নির্বাচনী প্রস্তুতি নয়, দলীয় জনপ্রতিনিধিদের আচরণ এবং সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নিয়েও স্পষ্ট বার্তা উঠে এসেছে। সামনে উপনির্বাচন ও পুরভোট, তার আগে এই নির্দেশগুলি বাস্তবে দলের নেতা-কর্মীদের কাজে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।