বাংলাহান্ট ডেস্ক:আকাশে তখন স্বাভাবিকভাবেই চলছিল ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai Incident) যাত্রা। আচমকাই ককপিটে শুরু হয় ভয়ঙ্কর হাতাহাতি। দুবাই (Dubai) থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইট FZ1073-এর ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের (Smit Machchhar) উপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে তাঁর ওমানি সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে। হামলার পর বিমানটি আচমকা দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে বিমানে থাকা যাত্রী ও ক্রুদের হস্তক্ষেপ করতে হয়। গুরুতর আহত হয়েও স্মিত কোনওভাবে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রীদের কয়েকজন ভিতরে ঢুকে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে কাবু করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানে থাকা অন্য পাইলটদের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।
ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai Incident) ঘটনার নেপথ্যে জেহাদের যোগ?
ঘটনার পর বিমানের ভিতরের পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর বর্ণনা সামনে এসেছে। যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনার পর তিনি বারবার নিজেকে মেরে ফেলার কথা বলছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই বক্তব্যের পূর্ণ স্বাধীন যাচাই এখনও হয়নি। এদিকে ফ্লাইটটি যখন সৌদি আকাশসীমার উপর দিয়ে যাচ্ছিল, তখন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায় বলে ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য থেকে জানা গিয়েছে। সেই সময় বিমানে ১৭০-র বেশি মানুষ ছিলেন। দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারত (Flydubai Incident)।
আরও পড়ুন: ‘মমতার সবটাই অভিনয়!’ শ্রীরামপুরে যুব গর্জন সভা থেকে তৃণমূলকে তুলোধোনা সৌমিত্র খাঁর
এই ঘটনার পর অভিযুক্ত ওমানি নাগরিক সহ-পাইলটের উদ্দেশ্য এবং মানসিক অবস্থাকে ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘র্যাডিকাল ইসলামিস্ট ইন্ডক্ট্রিনেশন’-এর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং তিনি আত্মঘাতী মানসিকতায় ছিলেন। তবে কে বা কারা তাঁকে প্রভাবিত করেছিল, সে বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য তাঁর কাছে নেই বলেও জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ইজরায়েলের সঙ্গে ওমানের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ওই দেশের একজন পাইলট ইজরায়েলগামী বিমানের ক্রুতে ছিলেন। ইজরায়েল তদন্তে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে সহযোগিতা করবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
তবে হামলার নেপথ্যে আসল কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির নেতৃত্বে তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্ত সহ-পাইলটের উদ্দেশ্য, তাঁর অতীত এবং কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের কোনও যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবে সেই সম্ভাবনার পক্ষে এখনও কোনও প্রকাশ্য প্রমাণ সামনে আসেনি। তদন্তকারীরা হামলার সঙ্গে কোনও সন্ত্রাসবাদী উদ্দেশ্য বা সংগঠিত পরিকল্পনার যোগ ছিল কি না, সেটিও যাচাই করছেন। ফলে এই মুহূর্তে কোনও নির্দিষ্ট কারণকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: এই তারকাকে ব্যাটিংয়ের সুযোগই দেওয়া যাচ্ছে না! ভারতীয় দলের নতুন সমস্যা নিয়ে চিন্তায় গম্ভীর
গোটা ঘটনায় ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেন, যার ফলে যাত্রীরা ভিতরে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ পান। পরে বিকল্প ক্রু বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্মিত পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথাও বলেন এবং সেই ঘটনার বিবরণ দেন। তাঁর সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেছেন মোদি এবং নেতানিয়াহু দু’জনেই। ভয়াবহ সেই মুহূর্তে তাঁর দ্রুত সিদ্ধান্তই যে বহু প্রাণ বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা চলছে (Flydubai Incident)।













