বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, বিশ্ব ব্যাঙ্ক (World Bank) মঙ্গলবার চলতি অর্থবর্ষের জন্য ভারতের (India) অর্থনৈতিক বৃদ্ধির (GDP Growth) পূর্বাভাস এপ্রিল মাসের অনুমানের চেয়ে ০.৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭.১ শতাংশ করেছে। প্রত্যাশার চেয়ে ভালো প্রথম ত্রৈমাসিকের ফলাফলের কারণেই এই বৃদ্ধি ঘটেছে। বিশ্ব ব্যাঙ্ক তার সর্বশেষ ‘ইন্ডিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ রিপোর্টে জানিয়েছে যে, বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হওয়ায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য বৃদ্ধির পূর্বাভাস গত এপ্রিলের ৬.৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.১ শতাংশ করা হয়েছে।
ভারতের অর্থনীতির ওপর ভরসা World Bank-এর!
কারণ: ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশে বাড়ানো হয়েছে। যা ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ছিল ৭.২ শতাংশ। এই বৃদ্ধি শক্তিশালী বিনিয়োগ এবং দৃঢ় ব্যক্তিগত খরচ দ্বারা ইতিবাচক সমর্থন পেয়েছে এবং অনুকূল নীতি ও ঋণ পরিস্থিতির প্রভাব বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমিত করেছে। বিশ্ব ব্যাঙ্ক উল্লেখ করেছে যে, প্রাথমিকভাবে গ্রামীণ চাহিদা শহুরে চাহিদাকে ছাড়িয়ে গেছে। কৃষি সেক্টরের উন্নত কর্মক্ষমতা, গ্রামীণ আয় সহায়তা, খাদ্য ভর্তুকি এবং নিম্ন মুদ্রাস্ফীতির কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। এদিকে, আয়কর ছাড় এবং GST হ্রাসের ফলে বছরের বাকি অংশে শহুরে চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এপ্রিল মাস থেকে শিল্প সেক্টরের কার্যকলাপ প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ছিল।

তেল ও এল নিনো থেকে ঝুঁকি: জানিয়ে রাখি যে, জ্বালানির দামে আকস্মিক ও ব্যাপক বৃদ্ধির কারণে বড় ধাক্কা মিলেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিগুলি জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই তেলের ক্রমাগত উচ্চমূল্য মুদ্রাস্ফীতি, চাহিদা এবং বৃদ্ধির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করে। ইতিমধ্যেই বিশ্ব ব্যাঙ্কের চিফ এশিয়া ইকনমিস্ট ফ্রান্সিস্কা অনসোর্জ বলেছেন, শক্তিশালী এল নিনো এই চাপগুলিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে ভারতে, যেখানে গ্রামীণ চাহিদা ও খাদ্য মুদ্রাস্ফীতিতে কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উল্লেখ্য যে, ভারতে সর্বশেষ এল নিনো পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল ২০২৩ সালে। যখন বর্ষার বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদী গড়ের ৯৫ শতাংশ ছিল। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আশা করছে যে চলতি অর্থবর্ষে মুদ্রাস্ফীতি গড়ে ৫ শতাংশ থাকবে। অর্থনীতিবিদদের ওপর রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, আগামী ৭ অক্টোবর সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে এবং ডিসেম্বরে আরও একবার তা বৃদ্ধি পাবে।
আরও পড়ুন: ফেয়ারওয়েল ম্যাচের নেপথ্যে টাকার খেলা? সংশয় প্রকাশ খোদ মেসির, কী বলছে রিপোর্ট?
এদিকে, অদূর ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, বিশ্ব ব্যাঙ্ক টেকসই বৃদ্ধি এবং উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিগুলিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স গ্রহণ ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্ব ব্যাঙ্কের মতে, ভারতে AI গ্রহণ সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ভারতে প্রায় ২৩ শতাংশ সংস্থা AI ব্যবহার করছে। যেখানে আমেরিকায় এই হার ৪৩ শতাংশ। ব্যাঙ্কটি বলেছে, উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং গ্লোবাল অর্থনৈতিক ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে বাধা দিলেও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যাপক ব্যবহার মধ্যমেয়াদে এই অঞ্চলের বৃদ্ধির গতি বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।













