বাংলা হান্ট ডেস্ক : চাকরি হারানোর পর দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন দুর্গাপুরের কয়েকজন শিক্ষক। অবশেষে সেই মামলায় বড় নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)। স্কুল বন্ধ এবং তার আগে শিক্ষক ছাঁটাইয়ের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শুধু ক্ষতিপূরণই নয়, নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে অতিরিক্ত সুদও দিতে হবে দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষকে।
চাকরি হারানো শিক্ষকদের জন্য নির্দেশ হাইকোর্টের(Calcutta High Court)
ঘটনার সূত্রপাত দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের অধীনে থাকা একাধিক স্কুলকে ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরে ওই সংস্থার পরিচালনায় দুর্গাপুর ইস্পাত হাইস্কুল, শিবাজী রোড ডিএসপি বয়েজ হাইস্কুল-সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলত। স্কুলগুলির কোনওটি ছিল সিবিএসই অনুমোদিত, আবার কোনওটি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের স্বীকৃতি নিয়ে পরিচালিত হত। বাংলা ছাড়াও হিন্দি এবং ইংরেজি মাধ্যমেও পড়াশোনা চালু ছিল। প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক ধরে পড়ুয়াদের পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার পর ২০১৫ সালে শেষ পর্যন্ত স্কুলগুলি বন্ধ হয়ে যায়।
তার কয়েক বছর আগে থেকেই শিক্ষক নিয়োগ এবং ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ২০০৯ সালে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে পার্শ্বশিক্ষক নিয়োগ করেছিল কর্তৃপক্ষ। স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে একটা সময়ে প্রায় ৪৫ জন শিক্ষক এই স্কুলগুলিতে পড়াতেন। শিক্ষকদের পারিশ্রমিকও নির্দিষ্ট হারে দেওয়া হত। কর্মজীবনের শুরুতে দৈনিক ১৫০ টাকা করে পাওয়া গেলেও পরে তা বেড়ে ৩০০ টাকা হয়। কিন্তু সেই চাকরির স্থায়িত্ব শেষ পর্যন্ত টিকে থাকেনি।
বিভিন্ন সময়ে একাধিক শিক্ষককে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন শিক্ষক চাকরি হারানোর পর আইনি পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে তাঁরা সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হন। কিন্তু ২০২৫ সালে CAT তাঁদের আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর আরেক দফা আইনি লড়াই শুরু হয়। ট্রাইবুনালের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন চাকরিহারা শিক্ষকরা।মামলাটি শুনে এবার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানিয়েছে, প্রত্যেক সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে তাঁর চাকরির সময়কাল অনুযায়ী প্রতি বছর ১.৫ লক্ষ টাকা করে দিতে হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে ৬ শতাংশ হারে সুদ।

আরও পড়ুন : নন্দীগ্রাম-রেজিনগরের ফল নিয়ে বড় দাবি মুখ্যমন্ত্রীর, কোথায় কত ভোটের হিসাব?
মামলাকারীদের আইনজীবী উদয়শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে স্কুলগুলি বন্ধ হলেও তার আগে বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষকদের চাকরি থেকে সরানো হয়েছিল। তাই কোনও শিক্ষক যত বছর সংশ্লিষ্ট স্কুলে কাজ করেছেন, সেই সময়ের হিসাব ধরেই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণ করতে হবে। সেই অর্থের উপর ৬ শতাংশ সুদও প্রযোজ্য হবে। আদালত ক্ষতিপূরণ মেটানোর জন্য ৪৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে টাকা না দেওয়া হলে আরও ৬ শতাংশ সুদ দিতে হবে ডিএসপি কর্তৃপক্ষকে। এখন দেখার হাইকোর্টের বেধে দেওয়ার সময় সীমার মধ্যে সুদসহ ক্ষতিপূরণের টাকা ফেরত দেওয়া হয় কিনা।













