বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোট শেষ, এবার অপেক্ষা ফলের। তার আগেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রের ফল নিয়ে নিজের হিসাব জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, দুই আসনেই বিজেপির প্রার্থীরা জয়ী হবেন। নন্দীগ্রামে গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার জয়ের ব্যবধান আরও বাড়বে বলেও দাবি তাঁর।
উপনির্বাচনের ফল নিয়ে আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)
বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ তাঁর নিজের জয়ের মার্জিনের তুলনায় পাঁচ থেকে ছগুণ বেশি ব্যবধানে জিতবেন বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রেজিনগর নিয়েও আত্মবিশ্বাসী তিনি। তাঁর দাবি, বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ১ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি ভোট পেতে পারেন। উপনির্বাচনকে ঘিরে দিনভর দুই কেন্দ্রেই ছিল রাজনৈতিক টানাপড়েন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সেই আবহেই নিজের মূল্যায়ন সামনে আনেন শুভেন্দু। বিশেষ করে রেজিনগরের সংখ্যালঘু ভোটের একটি অংশ বিজেপির দিকে গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সেখানে সংখ্যালঘু মহিলা ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিজেপির প্রতি সমর্থন দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে, প্রবীণ সংখ্যালঘু ভোটারদের একাংশ কংগ্রেস এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির দিকে গিয়েছেন বলে দাবি তাঁর। অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগীদের নিয়েও নিজের ভোটের হিসাব তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যে এই প্রকল্পের প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ উপভোক্তার মধ্যে প্রায় ২৪ লক্ষ মুসলিম মহিলা রয়েছেন। রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় থাকা মুসলিম মহিলাদের প্রায় ৯০ শতাংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন বলে তিনি মনে করছেন।
একইভাবে আবাস যোজনার সংখ্যালঘু উপভোক্তাদের মধ্যেও বিজেপির প্রতি সমর্থন ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। বিরোধী দলগুলির ভোটের পরিমাণ নিয়েও নিজের পূর্বাভাস দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, দুই কেন্দ্রেই বাম ও তৃণমূলের সাংগঠনিক প্রভাব কার্যত ছিল না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামে সিপিআই এক-দেড় হাজার ভোট পাবে কি না সন্দেহ আছে। রেজিনগরে সিপিএম নোটার নিচেও থাকতে পারে। দুই জায়গাতেই বামেদের কোনও অস্তিত্ব ছিল না। একই অবস্থা তৃণমূলেরও।”

আরও পড়ুন :দীর্ঘ অপেক্ষার পর অভীক দে-র সার্ভিস কোটা বাতিল, ‘অনিয়ম’-এ জড়িতদের নিয়ে উঠল প্রশ্ন
এদিকে ভোটদানের হারও নজর কেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ৭৯.৩৯ শতাংশ এবং রেজিনগরে ৭৮.৪২ শতাংশ ভোট পড়েছে। অর্থাৎ দুই কেন্দ্রেই ভোটারদের অংশগ্রহণ প্রায় ৮০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল।
এখন অবশ্য নজর গণনার দিকে। শুভেন্দু অধিকারী আগেই দুই কেন্দ্রেই বিজেপির জয়ের দাবি করেছেন। কিন্তু তাঁর এই পূর্বাভাস কতটা মেলে, তা জানা যাবে ভোটগণনার পরেই। ৯ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ফল প্রকাশ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে দুই কেন্দ্রের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নিয়েছেন।













