বাংলা হান্ট ডেস্ক : দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে অভীক দে-কে (Abhik Dey) ঘিরে সার্ভিস কোটা সংক্রান্ত বিতর্কে পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্য ভবন। ২০২৪ সালে এসএসকেএমের সার্জারি বিভাগে স্নাতকোত্তর কোর্সে সার্ভিস কোটায় তাঁর ভর্তি নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল, তদন্তের পর এবার সেই কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারের বিজ্ঞপ্তিতে এসএসকেএম কর্তৃপক্ষকে ওই বছরের সার্জারি বিভাগের স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদের তালিকা সংশোধন করে অভীকের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিক দে-র (Abhik Dey) সার্ভিস কোটা বাতিল
তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সামনে আসার পরও এতদিন কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় চিকিৎসক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। গত ২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় তদন্ত কমিটি স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহার কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছিল। তার পরেও পদক্ষেপ না হওয়ায় চিকিৎসক সংগঠনগুলির একাংশ স্বাস্থ্য ভবনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়। শেষ পর্যন্ত সেই রিপোর্টে করা সুপারিশকেই ভিত্তি করে অভীকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হল।
সার্ভিস কোটায় অভীকের ভর্তি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত অবশ্য আরজি কর আন্দোলনের আগেই। অভিযোগ ছিল, নির্দিষ্ট নিয়ম পূরণ না করেই কীভাবে তিনি এসএসকেএমের সার্জারি বিভাগে স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ পেলেন। পরে আরজি কর-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে আন্দোলন তীব্র হলে বিষয়টি আরও প্রকাশ্যে আসে।
অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রথমে এনআরএসের তৎকালীন অধ্যক্ষ পীতবরণ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি তৈরি হয়েছিল। সেই কমিটি স্বাস্থ্য ভবনকে জানায়, অভীকের সার্ভিস কোটা পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘অনিয়ম’-এর অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে। কমিটির তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশও করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় রিপোর্টের সুপারিশ কার্যকর হয়নি বলেই অভিযোগ চিকিৎসক সংগঠনগুলির। সরকার পরিবর্তনের পর বিষয়টি ফের সামনে আসে। গত অগস্টে দ্বিতীয়বার তদন্তের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
দ্বিতীয় তদন্তেও সার্ভিস কোটার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কমিটির রিপোর্টে বলা হয়, গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় কাজ করার শর্ত পূরণের জন্য অভীক যে নথি জমা দিয়েছিলেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। বর্ধমানের অনাময় হাসপাতালে তাঁর কর্মরত থাকার দাবিও নথিপত্রের ভিত্তিতে প্রশ্নের মুখে পড়ে। শুধু অভীকের ক্ষেত্রেই নয়, তাঁকে ওই ‘অনিয়ম’-এর ক্ষেত্রে সহায়তা করেছিলেন বলে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
দ্বিতীয় কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ার পরেও অবশ্য সঙ্গে সঙ্গে সার্ভিস কোটা বাতিল হয়নি। বরং ১ অক্টোবর অভীকের ‘ট্রেনি রিজার্ভ’ বাতিল সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়। কিন্তু সেখানে সার্ভিস কোটায় কোনও অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এই বিষয়টিই চিকিৎসক সংগঠনগুলির মধ্যে ফের প্রশ্ন তৈরি করে। তাঁদের বক্তব্য ছিল, তদন্তের রিপোর্ট হাতে থাকা সত্ত্বেও কেন অভীকের বিরুদ্ধে স্পষ্ট পদক্ষেপ করা হচ্ছে না।

আরও পড়ুন : পুজোর আগে আর্থিক সংকটে ‘মমতা তৃণমূলে’! হাইকোর্টে খারিজ আবেদন, টাকা ছাড়ছে না স্পেশাল অফিসার
শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবারের বিজ্ঞপ্তিতে সেই অবস্থান পরিষ্কার করেছে স্বাস্থ্য ভবন। তদন্ত কমিটির সুপারিশ মেনে অভীকের সার্ভিস কোটা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি এসএসকেএমকে ২০২৪ সালে সার্জারি বিভাগে ভর্তি হওয়া স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদের তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভীকের ভর্তি প্রক্রিয়ায় কারা যুক্ত ছিলেন, কার সুপারিশে অনুমোদন মিলেছিল এবং তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এখন সেই প্রশ্নগুলির দিকেই নজর থাকবে।













