বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দেখতে দেখতে দুর্গাপুজোর মরসুম এসে গেছে। কিন্তু কালীঘাট তৃণমূল বা মমতা তৃণমূল (Mamata TMC) বর্তমানে দুর্গাপুজো তহবিল সংকটে জড়িয়ে পড়েছে। আদালতের নিযুক্ত স্পেশ্যাল অফিসার প্রয়োজনীয় টাকা ছাড়তে রাজি নন। ফলে দলীয় কর্মচারীদের বকেয়া বেতন থেকেস শুরু করে অফিসের বাড়িভাড়া মেটানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কেন আটকে গেল মমতা তৃণমূলের টাকা?
পুলিশের অভিযোগে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে তৃণমূলের মোট তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়েছিল। এই অ্যাকাউন্টগুলিতে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা ছিল। গত ৯ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে স্পেশ্যাল অফিসার নিযুক্ত করেন। একইসাথে নির্দেশ দেন, দৈনন্দিন সাংগঠনিক খরচ ও কর্মীদের বেতনের জন্য স্পেশ্যাল অফিসারের মাধ্যমেই টাকা ছাড়া হবে। আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এই নিয়ম বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছিল।
এদিকে নির্বাচন কমিশন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নাম ও জোড়াফুল প্রতীকও সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। তৃণমূলের তরফ থেকে যেমনটা জানা হচ্ছে, স্পেশ্যাল অফিসার লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন যে দলের নাম ও প্রতীকের নিষেধাজ্ঞা শুধু উপনির্বাচনের জন্য, নাকি অনির্দিষ্টকালের জন্য? সেই প্রশ্নের জবাব না পেয়ে তিনি পুজোর আগে তহবিল মুক্ত করতে অস্বীকার করেছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘আগামী কুড়ি বছর রাজ্যে ও দেশে বিজেপি থাকছে’, জলপাইগুড়ি সফরে গিয়ে বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের
হাইকোর্টে দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ
ইতিমধ্যেই কালীঘাট তৃণমূল অবিলম্বে তহবিল ব্যবহারের অনুমতি ও জরুরি শুনানির আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে গিয়েছে। কিন্তু সেখানে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। সাথে তিনি জানিয়েছেন, পুজোর ছুটির পর আদালত স্বাভাবিক নিয়মে খুললে শুনানি হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে সেপ্টেম্বরের শুনানিতে আদালত স্পষ্ট করেছিল যে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ উপনির্বাচন কেন্দ্রিক অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ মাত্র। তবু স্পেশ্যাল অফিসার টাকা ছাড়ছেন না। ফলে কালীঘাট নেতৃত্ব আপাতত খালি হাতেই পুজো মোকাবিলা করতে বাধ্য হচ্ছে। তৃণমূলের এই আর্থিক জট শুধু দলীয় কর্মীদের জন্যই নয়। পুজোর সময় দলীয় কার্যক্রম সচল রাখার ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে কী নির্দেশ আসে, সেদিকেই এখন সবার নজর।













