বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চার জনের আবেদন যখন SIR-এর অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, তখন তাঁদের নাগরিকত্ব নির্ধারণে প্রশাসনের উদ্যোগ ঘিরে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বিলাসপুরের ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা FRO-এর ভূমিকা নিয়ে শুনানিতে রীতিমতো অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
কেন ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট (Calcutta High Court)?
মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের হিরানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাকিম শেখের আবেদনের ভিত্তিতে এই মামলা। তাঁর বক্তব্য, নাসিরুদ্দিন শেখ, লাল্টু শেখ, শফিকুল ইসলাম এবং সাবির শেখের SIR সংক্রান্ত আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হোক। এই চার জনেরই ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার কথা মামলায় জানানো হয়েছে।
আবেদনকারীর আইনজীবীর দাবি, চার জনের নাম ২০০২ সালের SIR ভোটার তালিকায় ছিল। শুধু পুরনো ভোটার তালিকাতেই তাঁদের নাম থাকার দাবি নয়, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁরা ভোট দিয়েছেন বলে আদালতে জানানো হয়েছে। মামলায় আরও জানানো হয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে সন্দেহের ভিত্তিতে চার জনকে বিলাসপুরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছে। আবেদনকারী মোস্তাকিম তাঁদের প্রতিবেশী। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তৈরি SIR অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালেই ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চার জন আবেদন করেছেন। ফলে সেই মামলা নিষ্পত্তির আগে তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে অন্য কোনও কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিলে দুটি প্রক্রিয়া পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে যেতে পারে।
এই জায়গাতেই ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসার (FRO)-এর ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল একটি বিষয়—ট্রাইব্যুনাল যদি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে, তার মধ্যেই অন্য কোনও কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জাতীয়তা নির্ধারণ করে দিলে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব কোথায় থাকবে?
শুনানিতে হাইকোর্টের বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “আপনাদের কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব কী? ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব কী? আপনার কর্তৃপক্ষ যদি একই সঙ্গে বিষয়টি নির্ধারণ করে, তাহলে আমি বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেব। কর্তৃপক্ষই সমস্ত নাগরিকত্বের বিষয় নির্ধারণ করছে… আপনারা এমন করছেন কেন?” এরপর পরিস্থিতিকে ‘পরস্পরবিরোধী’ বলেও মন্তব্য করে আদালত। বিচারপতি রাও বলেন, “আপনাদের কর্তৃপক্ষ যদি বলে যে তিনি ভারতীয় নন, তাহলে অ্যাপিলেট কর্তৃপক্ষ কী করবে? আপনারা মানুষের সঙ্গে খেলছেন।” শুনানির সময় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আদালতের সামনে আসে। জানানো হয়, চার জনকে FRO-এর তরফেই আটক করা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট FRO-কে এখনও মামলার পক্ষ করা হয়নি।

আরও পড়ুন : হোম-কার লোনে বাড়বে খরচ! ৪ বছরে এই প্রথম রেপো রেট বাড়াল RBI, কী জানালেন গভর্নর?
এরপর আবেদনকারীর আইনজীবীকে FRO-কে মামলায় যুক্ত করার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। পাশাপাশি চার জনকে আটকে রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছ থেকে রিপোর্টও চেয়েছে আদালত। আগামী ৮ অক্টোবর মামলাটি ফের শুনানির জন্য উঠবে। সেদিন FRO-এর তরফে কি রিপোর্ট পেশ করা হয় সেটাই দেখার।













