বাংলা হান্ট ডেস্ক: পূর্ব ভারতে গুদামজাতকরণ ও লজিস্টিকস পরিকাঠামো বাড়াতে বড় পদক্ষেপ করল ট্রান্স ইন্ডিয়া রিয়েল এস্টেট লিমিটেড। অলকার্গো গ্রুপের আওতাধীন এই সংস্থা হুগলির ডানকুনিতে প্রায় ৪৫ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে। এই জমিতে গড়ে উঠবে আধুনিক গুদাম এবং লজিস্টিকস পরিকাঠামো। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ২৪ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডানকুনির (Dankuni) এই প্রকল্পে মোট বিনিয়োগ প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
ডানকুনিতে বড় কোম্পানির ১,০০০ কোটির প্রকল্প (Dankuni)
জমি অধিগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছে সংস্থা। ট্রান্স ইন্ডিয়া রিয়েল এস্টেটের রিয়েল এস্টেট সিইও এবং গ্লোবাল প্রকিওরমেন্টের প্রধান রাম ওয়ালেসের জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরিকাঠামো তৈরি এবং মূল গুদামঘরের কাঠামো নির্মাণে আরও প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। অর্থাৎ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়েই সংস্থার নিজস্ব বিনিয়োগ প্রায় ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছবে। ডানকুনিতে (Dankuni) এই উদ্যোগই কলকাতা অঞ্চলে সংস্থার প্রথম বড় বিনিয়োগ হতে চলেছে।

আরও পড়ুন:পুজোয় পাহাড় যাবেন? ঘুরে আসুন পোখরিয়াবং থেকে
পরবর্তী ধাপে প্রকল্পের আরও প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই অর্থ সরাসরি ট্রান্স ইন্ডিয়া রিয়েল এস্টেটের পক্ষ থেকে নয়, বরং যারা ওই গুদাম ব্যবহার করবে, সেই ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির তরফে আসতে পারে। গুদামের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং ব্যবহারকারীদের চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য ব্যবস্থা তৈরিতে এই অর্থ খরচ হতে পারে। সম্ভাব্য গ্রাহকদের তালিকায় ই-কমার্স এবং লজিস্টিকস সংস্থাগুলি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দেশজুড়েও গুদাম ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় তাদের হাতে প্রায় ৩০০ একর জমি রয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতে আরও ৩০ থেকে ৪০ লাখ বর্গফুট গুদাম তৈরি করা সম্ভব বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। দিল্লি-এনসিআর, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই এবং পুণের মতো শহরে ইতিমধ্যেই তাদের উপস্থিতি রয়েছে। এবার পূর্ব ভারতের বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে সেই তালিকায় কলকাতাকেও যুক্ত করতে চলেছে সংস্থা।
ডানকুনির প্রকল্প চালু হলে দেশে ট্রান্স ইন্ডিয়া রিয়েল এস্টেটের মোট গুদাম পরিকাঠামোর আয়তন প্রায় ৬০ লাখ বর্গফুটে পৌঁছতে পারে। কলকাতা ও পূর্ব ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা ই-কমার্স এবং লজিস্টিকস বাজারকে সামনে রেখেই এই বিনিয়োগ বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী দু’বছরের মধ্যে প্রকল্পটি চালু হলে ডানকুনি শুধু পণ্য মজুতের একটি বড় কেন্দ্র হিসেবেই নয়, পূর্ব ভারতের সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও উঠে আসতে পারে (Dankuni)।













