বাংলা হান্ট ডেস্ক : বিয়ের পর নতুন সংসার, নিজের চাকরি আর জীবনের নানা আনন্দের মুহূর্ত—সব মিলিয়ে স্নেহা চক্রবর্তীর (Sneha Chakraborty) জীবন বাইরে থেকে ছিল সাজানো ছবির মতো। সমাজমাধ্যমে স্বামীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করতেন, ভাগ করে নিতেন বিশেষ দিনগুলির স্মৃতি। সেই তরুণীরই শ্বশুরবাড়িতে আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে এখন উঠছে একাধিক প্রশ্ন। পরিবারের অভিযোগ, গাড়ি কেনার জন্য টাকা চেয়ে স্নেহার উপর চাপ সৃষ্টি করা হত। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও তুলেছেন তাঁর বাবা। গোটা ঘটনায় সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
স্নেহা চক্রবর্তীর (Sneha Chakraborty) মৃত্যু ঘিরে এখন শুধুই রহস্য
মেদিনীপুর শহরের ডাকবাংলো রোডের বাসিন্দা স্নেহার বিয়ে হয়েছিল প্রায় এক বছর আগে। তাঁর স্বামী রণদীপ জানা যমুনা বালির বাসিন্দা। স্নেহার বাবা ধ্রুব চক্রবর্তীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে নানা ধরনের অত্যাচার সহ্য করতে হত। তাঁর দাবি, BMW গাড়ি কেনার জন্য বাপের বাড়ি থেকে ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে আসতে স্নেহাকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এই দাবিকে কেন্দ্র করে দম্পতির মধ্যে প্রায়ই বিবাদ বাধত বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
পরিবারের দাবি, গাড়ি কেনার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন স্নেহা। কিন্তু সেই আপত্তি সত্ত্বেও গত বুধবার BMW কিনে বাড়িতে ফেরেন রণদীপ। এর পরদিন, বৃহস্পতিবার সকালে শ্বশুরবাড়িতে স্নেহার মৃতদেহ পাওয়া যায়। পরপর ঘটে যাওয়া এই ঘটনাগুলিকে ঘিরে পরিবারের সন্দেহ আরও বেড়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
মেদিনীপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এইচআর পদের দায়িত্বে ছিলেন স্নেহা। কলকাতার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে হাসপাতাল পরিচালনা সংক্রান্ত পড়াশোনা শেষ করে তিনি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও ছিল ভালো। নিজের ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলি স্মরণীয় করে রাখতেও ভালোবাসতেন স্নেহা। ফেসবুকে ছবি দেওয়া, রিল তৈরি করা কিংবা বিশেষ দিনের স্মৃতি ভাগ করে নেওয়া ছিল তাঁর অভ্যাস। স্নেহা শুধু পরিবারের কাছেই নয়, পাড়ার মানুষের কাছেও ছিলেন পরিচিত মুখ। স্থানীয় দুর্গাপুজোর আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর পুজো কমিটির সদস্যদের মধ্যেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, মেয়ের মৃত্যু আত্মহত্যা বলে মেনে নিতে নারাজ স্নেহার বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে সেফটিপিন দেখলেও ভয় পায়। সে কখনই সুইসাইড করতে পারে না। ওকে মেরেই ফেলা হয়েছে।’ তাঁর বক্তব্য, ঘটনার পিছনে কী রয়েছে, তা সামনে আনতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পেশায় পুলিশকর্মী ধ্রুব জানিয়েছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও বিষয়টি জানিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, ‘আমার মেয়ের মৃত্যুর বিচার চাই।’ অভিযোগের সত্যতা, মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং ঘটনার নেপথ্যে কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।