বাংলা হান্ট ডেস্ক: ফ্রান্সের (France) একাধিক শহরে বিক্ষোভ ও অশান্তির আবহে সেদেশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক করল ভারত (India)। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে প্যারিসে (Paris) অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। বুধবার প্রকাশিত বিবৃতিতে বড় জমায়েত এড়িয়ে চলা, বিক্ষোভের জায়গা থেকে দূরে থাকা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধু বর্তমানে ফ্রান্সে থাকা ভারতীয়রাই নন, যাঁরা আগামী দিনে সে দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জেরে ফ্রান্সের কয়েকটি এলাকায় স্থানীয় ভাবে কার্ফু জারি হয়েছে। তাই কোনও রকম ঝুঁকি না নিয়ে সতর্ক থাকা এবং পরিস্থিতির দিকে নিয়মিত নজর রাখা জরুরি। প্রয়োজনে যাতে ভারতীয় নাগরিকেরা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
ফ্রান্সে (France) অশান্তির জেরে প্রবাসী ভারতীয়দের সতর্ক করে নির্দেশিকা জারি দিল্লির:
দূতাবাসের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ফ্রান্সের (France) বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় জমায়েত ও ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। যে সমস্ত এলাকায় বিক্ষোভ চলছে, সেখানে যাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা এবং সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে পরিস্থিতির সর্বশেষ খবরাখবর রাখার উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। কোনও এলাকায় কার্ফু জারি থাকলে বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ থাকলে তা অমান্য না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ভারতীয়দের। বিদেশের মাটিতে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সতর্কবার্তা বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ইটালিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসও সে দেশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য একই ধরনের সতর্কতামূলক নির্দেশিকা জারি করেছিল। ফলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলতে থাকা অস্থির পরিস্থিতির দিকে ভারতীয় প্রশাসন নজর রাখছে, তা স্পষ্ট।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রথম দিকে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে পথে নামলেও, ক্রমে সেই আন্দোলনের পরিধি বেড়েছে বলে খবর। স্কুল ও কলেজের পরিকাঠামো, কর্মীসংকট এবং জনকল্যাণমূলক পরিষেবার মান নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচও সাধারণ মানুষের ক্ষোভের অন্যতম কারণ বলে জানা যাচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সরকারি পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে না। উন্নত পরিষেবার দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন কয়েকটি জায়গায় হিংসাত্মক চেহারা নিয়েছে। প্যারিস, মার্সেই এবং লিয়নের মতো শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, লুটপাট এবং সরকারি সম্পত্তিতে আগুন লাগানোর মতো ঘটনার খবর সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকটি এলাকায় কার্ফু জারি করা হয়েছে এবং বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে খবর।
এরই মধ্যে আন্দোলনকারীদের তরফে বৃহস্পতিবার ও শনিবার নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলিতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই কর্মসূচিগুলিকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিক্ষোভের কারণে যাতায়াত, দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং জনপরিষেবায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই ফ্রান্সে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের যাতায়াতের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা জরুরি। বিশেষ করে যে সমস্ত এলাকায় বিক্ষোভ বা সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে অপ্রয়োজনে যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ফ্রান্সের সর্বত্র একই ধরনের পরিস্থিতি রয়েছে, এমন নয়। স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: হয়নি বৈঠক, সরকারি কর্মীদের DA বৃদ্ধি নিয়ে খারাপ খবর! অপেক্ষায় প্রায় ১.২ কোটি
ফ্রান্সের (France) এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলেও নজর কেড়েছে। একই দিনে ভারতে একটি আন্দোলন প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের এক বিচারপতিও বিদেশে ছাত্রবিক্ষোভ থেকে অশান্তি ছড়ানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন বলে জানা গিয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের ডাকা আন্দোলন নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সতর্ক করেন, জমায়েতকে সঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। যদিও বিচারপতি নির্দিষ্ট করে ফ্রান্সের নাম উল্লেখ করেছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির তুলনা টেনেছেন অনেকে। সব মিলিয়ে, ফ্রান্সে চলতে থাকা বিক্ষোভের আবহে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে নয়াদিল্লি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকা, স্থানীয় নির্দেশিকা মেনে চলা এবং দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য হাতের কাছে রাখাই প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।














