বাংলা হান্ট ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার জালিয়াতির ঘটনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই আবহে সরকার মেসেজিং অ্যাপের নিয়ম পরিবর্তন করছে। যার অধীনে, হোয়াটসঅ্যাপ থেকে শুরু করে টেলিগ্রাম এবং অন্যান্য অ্যাপের অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস করার জন্য ফোনে একটি সক্রিয় সিম কার্ড রাখা বাধ্যতামূলক হবে। এই সিস্টেমটিকে সিম বাইন্ডিং (Sim Binding) বলা হয়। এর উদ্দেশ্য হল, মোবাইল নম্বরের অপব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত (Cyber Fraud) হওয়ার মতো ঘটনাগুলি বন্ধ করা। এমতাবস্থায়, আপনিও যদি ফোন থেকে সিম সরিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম (Telegram) ব্যবহার করেন, সেক্ষেত্রে আসন্ন নিয়মকানুনগুলি সম্পর্কে অবশ্যই জেনে রাখা প্রয়োজন। বর্তমান প্রতিবেদনে এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপিত করা হল।
কবে থেকে লাগু সিম বাইন্ডিং (Sim Binding)?
সিম বাইন্ডিং নিয়ম: জানিয়ে রাখি যে ২০২৫ সালের নভেম্বরে, টেলিযোগাযোগ বিভাগ (DOT) হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম এবং অন্যান্য মেসেজিং অ্যাপগুলিকে সিম বাইন্ডিং চালু করার নির্দেশ দিয়েছে। সোজা কথায়, যে মোবাইল নম্বর দিয়ে আপনি কোনও অ্যাপে অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছেন, সেই নম্বরের সঙ্গে লিঙ্ক করা সক্রিয় সিমটি অবশ্যই সেই ফোনেই থাকতে হবে যে ফোনে আপনি অ্যাপটি চালাচ্ছেন। বর্তমানে, কোনও নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করার পর সিমটি সরিয়ে ফেললেও অনেক মেসেজিং অ্যাপ কাজ করতে পারে। সিম বাইন্ডিং চালু হলে এই ব্যবস্থাটি পরিবর্তিত হতে পারে। সরকারের লক্ষ্য হল অ্যাপ অ্যাকাউন্ট এবং এর সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বরটি যেন সঠিকভাবে সংযুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল নম্বরের অপব্যবহারের কারণে সৃষ্ট জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব।

নিয়মগুলি কবে বাস্তবায়ন হবে: উল্লেখ্য যে, প্রাথমিকভাবে, সংস্থাগুলিকে নতুন নিয়মগুলি বাস্তবায়নের জন্য ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে, প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং অ্যাপ সংস্থাগুলির দাবির কারণে সময়সীমা বাড়ানো হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের রিপোর্ট অনুযায়ী, টেলিযোগাযোগ বিভাগ সংস্থাগুলিকে নিয়ম মেনে চলার জন্য ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। তাই, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারিকে পরবর্তী শেষ তারিখ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে, কীভাবে এবং কখন সমস্ত অ্যাপে এই নিয়ম সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হবে তা তাদের প্রযুক্তিগত কাঠামো এবং নিয়ম মেনে চলার অবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারে।
আরও পড়ুন: ইথানলের পর মিথানলের পালা! কোথায় ব্যবহৃত হবে এই জ্বালানি? কী পরিকল্পনা সরকারের?
কোন কোন অ্যাপ প্রভাবিত হবে: সিম বাইন্ডিং নির্দেশাবলি শুধু হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং, এগুলির মধ্যে জোশ, স্ন্যাপচ্যাট, শেয়ারচ্যাট, সিগন্যাল, ShareChat, আরাত্তাই, এবং জিওচ্যাটের মতো অ্যাপগুলিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই অ্যাপগুলিকে তাদের সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। যাতে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত সক্রিয় সিমটি ফোনে উপস্থিত থাকে। সুতরাং, আপনি যদি এই অ্যাপগুলির কোনওটি ব্যবহার করেন, তাহলে সংস্থার পক্ষ থেকে আসা আপডেট ও নির্দেশাবলির প্রতি মনোযোগ প্রয়োজন। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর, যদি আপনি ফোন থেকে সিম কার্ড সরিয়ে ফেলার পরেও মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করেন, সেক্ষেত্রে অ্যাপগুলি ব্যবহারে আপনি সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। সুতরাং, আপনার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইল নম্বরের সক্রিয় সিমটি একই ফোনে রাখার প্রয়োজন হতে পারে।
আরও পড়ুন: IPL-এর এই দলের জার্সিতে দেখা যাবে Nike-এর লোগো! ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে হল বড় চুক্তি
এদিকে, হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েবের মতো কম্পিউটার ভার্সানের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে ওয়েব সেশন থেকে লগ আউট করার বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ছয় ঘণ্টা পর পর লগ আউট করা এখন আর বাধ্যতামূলক সময়সীমা নয়। আসলে, সিম বাইন্ডিং একটি মোবাইল নম্বর এবং একটি মেসেজিং অ্যাকাউন্টের মধ্যে সংযোগ বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি কিছু প্রতারণামূলক পদ্ধতি প্রতিরোধ করতে সহায়ক হতে পারে। তবে, এটা বলা যায় না যে এর মাধ্যমে সব ধরনের সাইবার জালিয়াতি সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হবে। এমতাবস্থায়, ব্যবহারকারীদের অজানা লিঙ্কে ক্লিক করা, ওটিপি শেয়ার করা এবং সন্দেহজনক মেসেজের উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। সার্বিকভাবে, সিম বাইন্ডিংয়ের লক্ষ্য হল মেসেজিং অ্যাপগুলির নিরাপত্তা উন্নত করা। এদিকে, নিয়মগুলি কবে থেকে কার্যকর হবে এবং অ্যাপে এতে কোনও পরিবর্তন আসতে পারে কিনা, সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে অফিসিয়াল আপডেটগুলির দিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে।














