বাংলা হান্ট ডেস্ক : উচ্চ মাধ্যমিকের পর অনেকেই কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু ভর্তি খরচ সামলানো পরিবারের পক্ষে সহজ হয় না। আর্থিক সমস্যার কারণে যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থমকে না যায়, সে জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের স্কলারশিপ (Central Government Scholarship) প্রধানমন্ত্রী উচ্চতর শিক্ষা প্রোৎসাহন (PM-USP) প্রকল্প রয়েছে।
কী এই কেন্দ্রীয় সরকারের স্কলারশিপ (Central Government Scholarship)?
প্রকল্পটির পুরো নাম প্রধানমন্ত্রী উচ্চতর শিক্ষা প্রোৎসাহন (PM-USP) সেন্ট্রাল সেক্টর স্কিম অফ স্কলারশিপ ফর কলেজ অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের উচ্চশিক্ষা দফতর এই প্রকল্প পরিচালনা করে। দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে যোগ্য পড়ুয়াদের বেছে নেওয়া হয়। উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের পড়াশোনার আনুষঙ্গিক খরচে আর্থিক সাহায্য করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
এই প্রকল্পে প্রতি বছর সর্বাধিক ৮২ হাজার নতুন বৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা এর আওতায় আসতে পারেন। পাশাপাশি, নির্ধারিত নিয়ম মেনে মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো পেশাদার কোর্সে পড়া শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তার টাকা নির্ভর করে পড়ুয়ার কোর্স এবং শিক্ষার স্তরের উপর। স্নাতক স্তরে প্রথম তিন বছর প্রতি বছর ১২ হাজার টাকা করে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়ারা বছরে ২০ হাজার টাকা পেতে পারেন।
পাঁচ বছরের ইন্টিগ্রেটেড বা পেশাদার কোর্সের ক্ষেত্রে চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে বার্ষিক ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রযুক্তিগত শিক্ষার ক্ষেত্রে B.Tech বা B.Engg-এর মতো কোর্সে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরে বছরে ১২ হাজার টাকা এবং চতুর্থ বছরে ২০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে কোর্সভেদে প্রযোজ্য নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সরকারি নির্দেশিকায় দেওয়া সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা জরুরি।
প্রথম শর্ত হল দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফল। ১০+২ ব্যবস্থায় বোর্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগে ৮০তম পার্সেন্টাইলের উপরে থাকতে হবে। আবেদনকারীকে নিয়মিত ডিগ্রি কোর্সে ভর্তি থাকতে হবে এবং পড়াশোনা করতে হবে AICTE-সহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। আবেদনকারীর বাবা-মা বা পরিবারের মোট বার্ষিক আয় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বেশি হলে এই শর্ত পূরণ হবে না।

বৃত্তি পাওয়ার পরেও নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক। পরবর্তী বছরগুলিতে স্কলারশিপ নবীকরণের জন্য বার্ষিক পরীক্ষায় অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। একই সঙ্গে ক্লাসে উপস্থিতির হার কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ থাকা প্রয়োজন। আবেদনকারীর নিজের নামে আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকাও আবশ্যক। উচ্চশিক্ষার পথে আর্থিক চাপ অনেক সময় পড়ুয়া ও তাঁদের পরিবারের কাছে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি বৃত্তির সুযোগ সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকলে পড়াশোনার খরচ পরিকল্পনা করা সহজ হতে পারে।














