বাংলা হান্ট ডেস্ক: দুর্গাপুজোর মণ্ডপে তখন উপচে পড়া ভিড়। অষ্টমীর সন্ধ্যায় কেউ ব্যস্ত প্রতিমা দর্শনে, কেউ আবার ঢাকের তালে উৎসবের আনন্দে মেতে। ঠিক সেই সময়েই উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের একটি পুজোমণ্ডপে ঘটে গেল এক অভিনব ঘটনা (Barasat)। দেবী দুর্গাকে সাক্ষী রেখে মালাবদল করলেন এক যুগল। মণ্ডপেই বসে গেল বিয়ের আসর, মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হল সিঁদুরদান-সহ বিয়ের যাবতীয় রীতি। আচমকা এমন দৃশ্য দেখে প্রথমে হতবাক হয়ে যান ঠাকুর দেখতে আসা দর্শনার্থীরা। পরে অবশ্য নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে এগিয়ে আসেন অনেকেই। পরিবারের আপত্তির কারণে তাঁদের সম্পর্ক যখন জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল, তখন স্থানীয় বাসিন্দা ও পুজো উদ্যোক্তাদের উদ্যোগেই শেষ পর্যন্ত বিয়ের ব্যবস্থা হয়।
পুজোমণ্ডপে মালাবদল, অশোকনগরে প্রেমের ফিল্মি পরিণতি (Barasat)
ঘটনাটি অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজি সংঘের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে। পাত্র তনু অধিকারী অশোকনগরের বাসিন্দা। পাত্রী সৌমি দফাদারের বাড়ি খড়দহে। সমাজমাধ্যম ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে দু’জনের পরিচয়। প্রথমে আলাপ, তার পর বন্ধুত্ব এবং ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক প্রেমে পরিণত হয়। প্রায় এক বছর ধরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সৌমির পরিবার সেই সম্পর্কের কথা জানতে পারার পর থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে (Barasat)। পরিবারের তরফে আপত্তি থাকায় দু’জনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পুজোর সময় দেখা করার পরিকল্পনা করেন তাঁরা। সেই পরিকল্পনা থেকেই অষ্টমীর সন্ধ্যায় অশোকনগরে চলে আসেন সৌমি।

আরও পড়ুন:মাছের ঝোল নয়, কাতলা রাঁধুন এভাবে, তেল-ঝালে জমে যাবে
কিন্তু দেখা করতে আসার পরই নতুন করে সমস্যার সূত্রপাত হয়। সৌমির বাড়ি থেকে বারবার ফোন করে তাঁকে ফিরে যেতে বলা হচ্ছিল। পরিবারের তরফে চাপ বাড়তে থাকলেও তনুকে ছেড়ে বাড়ি ফিরতে রাজি হননি তিনি। সৌমির আশঙ্কা ছিল, বাড়ি ফিরে গেলে তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন হতে পারে, ফোন কেড়ে নেওয়া হতে পারে কিংবা পরিবারের তরফে অন্য কোথাও বিয়ের ব্যবস্থা করা হতে পারে। সেই ভয় থেকেই তিনি বাড়ি ফিরতে চাইছিলেন না। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠলে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুজো উদ্যোক্তাদের। দু’জনের কথা শোনার পর তাঁরা জানতে পারেন, তনু ও সৌমি বিয়ে করতে চান। তখনই তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন স্থানীয়রা।
এরপর আর দেরি না করে দুর্গাপুজোর মণ্ডপেই বিয়ের আয়োজন করা হয়। দ্রুত জোগাড় করা হয় মালা, টোপর, শাঁখা-সহ বিয়ের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। ডেকে আনা হয় পুরোহিতকেও। অষ্টমীর রাতেই মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে মালাবদল, সিঁদুরদান-সহ বিয়ের বিভিন্ন রীতি সম্পন্ন করেন তনু ও সৌমি। পুজোমণ্ডপে তখনও দর্শনার্থীদের ভিড়। ঠাকুর দেখতে এসে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনার সাক্ষী হতে পেরে অবাক হয়ে যান অনেকে। তবে বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে তাঁদের মধ্যে উৎসাহও দেখা যায়। নেতাজি সংঘের সভাপতি অজয়কুমার দে জানান, ঘটনাটি তাঁদের কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে যুগলের সম্পর্কের কথা জানার পর তাঁদের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। নবদম্পতি যাতে সুখে সংসার করতে পারেন, সেটাই তাঁদের কামনা।
এই বিয়ের কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছিল না বলেই জানিয়েছেন তনু। তাঁর কথায়, পরিস্থিতির চাপে আচমকাই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এমন বিয়ের ঘটনা স্থানীয়দের কাছে যেমন বিরল, তেমনই তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে সমাজমাধ্যমেও। দেবী দুর্গাকে সাক্ষী রেখে তনু ও সৌমির বিয়ের ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে নেটমাধ্যমে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দশমীর দিন তনুর পরিবারে ঘরোয়াভাবে বউভাতের আয়োজন করা হয়েছে। তবে এই ঘটনার আবেগঘন দিকের পাশাপাশি একটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ—বিয়ের মতো সিদ্ধান্তে দু’জনের স্বাধীন সম্মতি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। আপাতত নতুন জীবন শুরু করলেন অশোকনগরের তনু ও খড়দহের সৌমি। তাঁদের আগামী দিন কেমন কাটে, সেটাই দেখার (Barasat)।














