বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, ফিরহাদ হাকিম সহ গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের ১০ জন বিধায়কের বিধায়ক পদ খারিজের আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chatterjee)। রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক। আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হতে পারে।
ফের সুপ্রিম কোর্টে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় | (Supreme Court)
রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে দেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত হয় নতুন শিবির। এরপর তাঁরা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করলেও মমতাপন্থী কালীঘাট তৃণমূল সেই দাবি মানতে চায়নি।
আরও পড়ুনঃ পুরভোটের আগেই BJP-তে তৃণমূলের জুঁই, অনন্যারা! জল্পনার মধ্যেই বড় বার্তা শমীকের
মমতা তৃণমূলের তরফে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে ‘বিদ্রোহী বিধায়ক’রা ঋতব্রতকে বেছে নেন। এরপর তাঁকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিযুক্ত করেন রাজ্য বিধানসভার স্পিকার।
এই নিয়ে আগেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। স্পিকারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শোভনদেব। যদিও স্পিকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে চায়নি হাইকোর্ট। এরপর জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট অবধি।
গত সেপ্টেম্বরে বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কদের বিধায়ক পদ খারিজের আবেদন জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সেই মামলার শুনানিতে আদালত জানায়, স্পিকারের কাছে এই ধরণের আবেদন জমা পড়লে তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হয়। এক্ষেত্রেও অন্যথা হবে না বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি।
এদিকে গত ৮ জুলাই মমতা তৃণমূলের তরফে স্পিকারের কাছে আবেদন জমা পড়েছিল। সেই অনুযায়ী ৮ অক্টোবর তিন মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। এরপরেও স্পিকারের সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। সেই জন্য ফের সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন শোভনদেব।

এই মামলায় ঋতব্রতর পাশাপাশি ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, আখতারুজ্জামান, অরূপ রায়, শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, রথীন ঘোষ, জাভেদ আহমেদ খান ও বিপ্লব মিত্রকে যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিও মামলায় যুক্ত হয়েছেন। দলত্যাগ বিরোধী আইনে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের বিধায়ক পদ খারিজের আবেদন জানানো হয়েছে।
বর্তমানে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে দলের নাম, প্রতীক, তহবিল নিয়ে দড়ি টানাটানি চলছে। ইতিমধ্যেই সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। এই আবহে ঋতব্রত সহ ১০ জন বিধায়কের বিধায়ক পদ খারিজের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।














