বাংলা হান্ট ডেস্ক : চোরবাগান কান্ডে (Chorbagan Incident) তদন্তের পরিধি আরও বাড়াচ্ছে পুলিশ। দুর্গাপুজোর আনন্দের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনার দায় কার, নিরাপত্তার ব্যবস্থায় কোনও ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। সেই উত্তর খুঁজতেই এবার মণ্ডপের নকশা তৈরির দায়িত্বে থাকা শিল্পী থেকে শুরু করে ঘটনার দিন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে লালবাজার। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য খতিয়ে দেখে সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।
চোরবাগান কান্ডে (Chorbagan Incident) শিল্পীকে তলব লালবাজারের
চোরবাগানকাণ্ডের তদন্তে এবার তলব করা হয়েছে শিল্পী সুশান্ত শিবানী পালকে। বুধবারের মধ্যে তাঁকে লালবাজারে হাজির হতে বলা হয়েছে। মণ্ডপের নকশা কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তার কাঠামো ও বিন্যাস কেমন ছিল, সেই বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চাইতে পারেন তদন্তকারীরা। মণ্ডপ তৈরির পরিকল্পনা এবং সেখানে মানুষের প্রবেশ ও বেরোনোর ব্যবস্থা কেমন ছিল, তা জানাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
শুধু শিল্পী নন, ঘটনার দিন দায়িত্বে থাকা ১২ জন পুলিশকর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হচ্ছে। লালবাজারে তাঁদের বক্তব্য রেকর্ড করা হবে। মণ্ডপের সামনের রাস্তা এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পথের দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের ভূমিকা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কে কোন জায়গায় দায়িত্ব পালন করছিলেন, ভিড় সামলানোর জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং বিপর্যয়ের সময় পরিস্থিতি কী ছিল, তা জানতে সংশ্লিষ্টদের বয়ান নেওয়া হবে।
তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে মণ্ডপ এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডিং। পুলিশ সূত্রে খবর, মোট ৩২টি ক্যামেরার মধ্যে এখনও ১৬টির ফুটেজ হাতে আসেনি। যে ফুটেজগুলি পাওয়া গিয়েছে, সেগুলি পরীক্ষা করে ঘটনার আগে, বিপর্যয়ের সময় এবং তার পরের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা চলছে। কীভাবে ভিড়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, মানুষের চলাচলে কোথায় সমস্যা তৈরি হয়েছিল, সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। এদিকে, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তিনজনকে আজ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লালবাজারে ডাকা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে সেদিনের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ মিলিয়ে দেখার মাধ্যমে ঘটনার ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা চলছে।
কী কারণে এমন বিপর্যয় ঘটল, নিরাপত্তার ব্যবস্থায় কোথায় ত্রুটি ছিল এবং কারও গাফিলতি থাকলে তার দায় কে নেবে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই রাজ্য সরকার বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করেছে। তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনে তোলা ভিডিয়ো এবং নিহত ও আহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র। সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে বিপর্যয়ের কারণ ও সম্ভাব্য গাফিলতির বিষয়টি নির্ধারণ করার কথা তদন্তকারী দলের।

আরও পড়ুন :টাকার বিনিময়ে ডিউটি বিক্রি! সরকারি হাসপাতালে ইন্টার্নদের সতর্ক করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চোরবাগানকাণ্ডে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনও নিজে থেকে পদক্ষেপ করেছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী সপ্তাহে এই ঘটনা নিয়ে শুনানি হতে পারে। ফলে পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি কমিশনের শুনানির দিকেও নজর রয়েছে। চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনায় এখন একাধিক দিক থেকে তদন্ত চলছে। মণ্ডপের নকশা, পুলিশি ব্যবস্থাপনা, সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য—সব তথ্য মিলিয়ে বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ সামনে আনার চেষ্টা হচ্ছে।














