বাংলা হান্ট ডেস্ক : বারুইপুরের পর এবার গাইঘাটায় এনকাউন্টার (Gaighata Encounter)। এক নাবালিকার মৃত্যু, ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে তোর চব্বিশ পরগনার গাইঘাটার প্রহ্লাদ দাসের। পুলিশের বক্তব্য, তদন্তের প্রয়োজনে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল প্রহ্লাদ দাসকে। কিন্তু সেখানে আচমকাই পরিস্থিতি বদলে যায়।
গাইঘাটায় এনকাউন্টারে (Gaighata Encounter) কী ঘটেছিল?
ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হলে পুলিশের অভিযোগ, তাদের আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে গুলি চালায় প্রহ্লাদ। পাল্টা গুলিতে গুরুতর জখম হয় সে। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এর আগে বারুইপুরেও ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রায় একই ধরনের ঘটনার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। ফলে অল্প কয়েক মাসের ব্যবধানে রাজ্যে ফের পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এল।
নারী নির্যাতনের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার গাইঘাটার ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য, আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই গুলি চালাতে হয়েছিল তাদের। তবে এই ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ ও পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার সকালে গাইঘাটা থানা এলাকার একটি বাড়ির পিছনে নাবালিকার অর্ধনগ্ন দেহ দেখতে পাওয়া যায়। আগের রাতে মেয়েটি মায়ের সঙ্গে এলাকার একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। সেখানে সে পরিচিত বান্ধবীদের সঙ্গে ঘুরছিল। কিন্তু কিছু সময় পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাতভর খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান মেলেনি। পরদিন সকালে দেহ উদ্ধারের পর নাবালিকার মা ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ তোলেন।পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রহ্লাদ দাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। তদন্তে নেমে তাকে গ্রেফতার করে গাইঘাটা থানার পুলিশ। এরপর অপরাধের ঘটনাক্রম বোঝার জন্য অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়।
এই ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বারুইপুরের আগের ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের মনে আইনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “এর আগেও ঘটনা ঘটেছে। খুনি পালাচ্ছিল। এনকাউন্টার হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে। এখানেও হয়েছে। বিচারের সামনে সবাইকে আনতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কেউ যদি আইন অমান্য করে, তাহলে তার সঙ্গে এরকমই হবে। পুলিশকে মানুষকে ন্যায় দিতে হবে। মানুষ তাঁদের উপর ভরসা রাখতে ভুলে গিয়েছে। ভরসা ফিরিয়ে আনতে গেলে মানুষকে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হবে। ভয় তো এত সহজে কেউ পায় না। কারণ আইন-কানুন ব্যবস্থা বহু বছর বাংলায় নেই। কিন্তু আইন-কানুনের রাজত্ব যদি প্রতিষ্ঠা হয়। তাহলে সবাই ভয় পাবে। সতর্ক হবে। দুটো জিনিস করতে হবে। যেমন সমাজে সুবিচার আনা, পরিবেশ ঠিক করা, যাতে এটা না করে লোকে। আর করলে তার যে সাজা হবে, তা যেন উদাহরণ হিসেবে থাকে।”

আরও পড়ুন : যাত্রীদের জন্য জরুরি খবর! একাধিক ট্রেনের সময়সূচিতে বদল, রইল তালিকা
গাইঘাটার ঘটনায় নাবালিকার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, তার সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত—সবকিছুরই যথাযথ নিষ্পত্তি প্রয়োজন। পাশাপাশি, পুলিশের গুলিচালনার পরিস্থিতি ও সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখাও গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনই প্রতিটি পদক্ষেপ আইনের নিয়ম মেনে হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।














