বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইউরোপের (Europe) একাধিক দেশে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনার আবহে প্রবাসী ভারতীয়দের (Indians) জীবনযাপন এবং তাঁদের সামাজিক ভূমিকা নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল (Piyush Goyal)। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভারতীয়দের সাদরে গ্রহণ করা হয়, কারণ তাঁরা সাধারণত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেন এবং স্থানীয় সমাজের সঙ্গে মিলেমিশে চলেন। বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের এই ভাবমূর্তির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারতীয় সম্প্রদায়কে শান্তিপ্রিয় হিসেবেই চেনেন অনেকে। জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রবাসী ভারতীয়দের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসে। ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে চলতে থাকা বিক্ষোভের পরিস্থিতিতে গোয়েলের বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে।
ইউরোপের বিক্ষোভের আবহে বার্লিনে ভারতকে নিয়ে বার্তা পীযূষ গোয়েলের (Piyush Goyal)
বর্তমানে জার্মানি সফরে রয়েছেন পীযূষ গোয়েল। সোমবার বার্লিনে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি তাঁদের সামাজিক আচরণ এবং পারিবারিক জীবনযাপনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। গোয়েলের কথায়, ভারতীয়রা পরিবারের সঙ্গে থাকেন, পরিবারের সদস্যদের যত্ন নেন এবং যে দেশে বসবাস করেন, সেখানকার সমাজের সঙ্গে মানিয়ে চলার চেষ্টা করেন। তাঁর মতে, বিদেশের মাটিতে ভারতীয়দের গ্রহণযোগ্যতার পিছনে এই জীবনযাত্রারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যে দেশে ভারতীয়রা বসবাস করেন, সেখানে তাঁদের উপস্থিতি ও আচরণ সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনের ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কোনও নির্দিষ্ট দেশের সমস্ত অভিবাসী সম্পর্কে একক সিদ্ধান্ত টানেননি; বরং বিদেশে ভারতীয় সম্প্রদায়ের পরিচিত ভাবমূর্তির দিকটিই তুলে ধরেছেন।
বার্লিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পীযূষ গোয়েল (Piyush Goyal) আরও বলেন, জার্মানিতে ভারতীয়রা যে স্বাগত ও সম্মান পান, তা তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ভাঙচুর বা জনজীবন বিপর্যস্ত করে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন না। ইউরোপের অন্য কয়েকটি অঞ্চলে যে ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তার সঙ্গে তুলনা টেনেই তিনি বলেন, ভারতীয়রা রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত করে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন না। তাঁর এই মন্তব্যের মূল সুর ছিল, বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের শান্তিপূর্ণ আচরণ তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করে। যদিও কোনও সম্প্রদায়ের আচরণ সম্পর্কে সামগ্রিক মূল্যায়ন করতে গেলে বিভিন্ন দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:৩ রাজ্যের ৩৮ টি জায়গায় তল্লাশি! ১০০ কোটির সন্দেহজনক হাওয়ালা লেনদেনের হদিস পেল NCB
উল্লেখ্য, মূল্যবৃদ্ধি, মজুরি, কর্মসংস্থান এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষকে কেন্দ্র করে ইউরোপের একাধিক দেশে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছে। ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালির মতো দেশেও নানা দাবিতে পথে নেমেছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে চললেও, কিছু ঘটনায় সংঘর্ষ, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে অভিবাসীদের ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিভিন্ন সময়ে অভিবাসী ও শরণার্থীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তবে ইউরোপের বিক্ষোভের কারণ একমাত্র অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয় নয়; অর্থনৈতিক চাপ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধেও বহু আন্দোলন গড়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: সর্বসম্মতভাবেই SIR-এর সিদ্ধান্ত, বদলানো হয়নি ফর্ম ৬, সুপ্রিম কোর্টকে জানালো ইলেকশন কমিশন
এই প্রেক্ষাপটে পীযূষ গোয়েলের (Piyush Goyal)মন্তব্যকে বিদেশে ভারতীয়দের ভাবমূর্তি তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন অনেকে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতীয় প্রবাসীদের অবদান, তাঁদের কর্মসংস্কৃতি এবং স্থানীয় সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক প্রায়ই আলোচনায় উঠে আসে। শিক্ষা, প্রযুক্তি, ব্যবসা এবং বিভিন্ন পেশায় ভারতীয়দের উপস্থিতি বহু দেশে উল্লেখযোগ্য। গোয়েলের বক্তব্যে সেই পরিচিতির পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে তাঁর মন্তব্য ইউরোপের চলতি বিক্ষোভ নিয়ে সরাসরি কোনও নীতিগত অবস্থান কি না, তা স্পষ্ট নয়। আপাতত বার্লিনে প্রবাসী ভারতীয়দের সামনে দেওয়া তাঁর এই বার্তা বিদেশের মাটিতে ভারতীয় সম্প্রদায়ের সামাজিক পরিচিতি এবং গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।














