বাংলা হান্ট ডেস্ক: সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণী পড়ুয়াদের জন্য নতুন পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে (CBSE)। সেই নির্দেশিকা বলা হয়েছে ২০২৬ ও ২৭ সালের শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণীর পড়ুয়াদের কোন কোন বিষয়ে পড়তে হবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত। পাশাপাশি দশম শ্রেণীতে কিভাবে পরীক্ষা হবে ও পাশের জন্য কত নম্বর প্রয়োজন। তাও স্পষ্ট করে দিয়েছে বোর্ড।
CBSE-র পাঠ্যক্রমে বড় বদল, বাদ পরিবেশ শিক্ষা (CBSE)
নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন দশম শ্রেণী পাঠ্যক্রম থেকে পরিবেশ শিক্ষা বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে (CBSE)। পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক বোর্ড পরীক্ষা ও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ও পাশের নিয়মের ক্ষেত্রফল একাধিক পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়েছে।
তবে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে ২০২৬-২৭ সালে শিক্ষা বর্ষে নবম শ্রেণিতে পাঠরত পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে। যারা ২০১৭ ও ২৮ শিক্ষাবর্ষের দশম শ্রেণীতে উঠবে। তবে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের বর্তমান দশম শ্রেণীর পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে না। তাদের জন্য আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

আরও পড়ুন: দীপাবলির আগে ফের দাম বাড়ল এলপিজি সিলিন্ডারের! গ্যাস কিনতে এবার কত টাকা খরচ হবে?
এবার জেনে নিন নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোন কোন বিষয়ে পড়তে হবে:
নতুন নিয়ম অনুযায়ী নবম শ্রেণীর পড়ুয়াদের মোট যে নটি বিষয়ে পড়তে হবে তা হল-
১. তিনটি ভাষা।
২. গণিত।
৩. বিজ্ঞান।
৪. সমাজবিজ্ঞান।
৫. শিল্পশিক্ষা।
৬. শারীরিক শিক্ষা ও সুস্থতা।
৭. বৃত্তিমূলক শিক্ষা।
একই সঙ্গে সিবিএসসি তালিকাভুক্ত ৫৭ টি বিষয়ের মধ্যে যেকোনো একটি ঐচ্ছিক বিষয় বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তারই সঙ্গে বিভিন্ন ভাষা, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, হোম সাইন্স, অঙ্কন, সংগীত ও ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ও রয়েছে। তবে ঐচ্ছিক ভাষা বেছে নিলে সেটি আগে নির্বাচিত তিনটি ভাষার থেকে আলাদা হবে। এই ব্যাচের পাঠ্যক্রমে ইন্টার ডিসিপ্লিনারি বিষয় হিসাবে, ইন্ডিভিজুয়ালস ইন সোসাইটি’ ও কম্পিউটেশনাল থিঙ্কিং অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট মডিউল গুলো থাকছে না। দশম শ্রেণীতে পরিবেশ শিক্ষা ও পড়তে হবে না পড়ুয়াদের।
পাশাপাশি প্রত্যেক পড়ুয়াকে বৃত্তিমূলক শিক্ষার অধীনে কৌশল বিকাশ বা ২২ টি দক্ষতা ভিত্তিক বিষয়ের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে। এই বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে- টেকনোলজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডেটা সায়েন্স, রিটেইল, হেলথকেয়ার, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স, ট্যুরিজম, এগ্রিকালচার, ডিজাইন থিংকিং এবং ইনোভেশন, অ্যান্ড অটোমোটিভ।
এছাড়া এই বিষয়টির মূল্যায়ন হবে স্কুলের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার মাধ্যমে। দশম শ্রেণীতে এর জন্য কোন বোর্ড পরীক্ষা দিতে হবে না পড়ুয়াকে। অন্তত ৩৩ শতাংশ নম্বর পেলে স্কুলের তরফ থেকে শংসাপত্র দেওয়া হবে।
জেনে নিন কোন কোন বিষয়ে হবে বোর্ড পরীক্ষা:
যে পাঁচটি বাধ্যতামূলক বিষয় দশম শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষা হবে তা হল-
১। প্রথম ভাষা (আর১)
২। দ্বিতীয় ভাষা (আর২)
৩। গণিত
৪। বিজ্ঞান
৫। সমাজবিজ্ঞান
এছাড়াও অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে কোন বিষয় বেছে নিলে সেটির জন্য বোর্ড পরীক্ষা দিতে হতে পারে। অন্যদিকে তৃতীয় ভাষা ও আর্ট এডুকেশন ও ফিজিক্যাল ও ওয়েল বিয়িং এর মূল্যায়ন হবে স্কুলের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার মাধ্যমে।
জেনে নিন পাশ করতে হলে কত নম্বর পাওয়া প্রযোজ্য?
পাঁচটি বাধ্যতামূলক বোর্ড পরীক্ষার প্রতিটি বিষয়ে অন্তত ৩৩% করে নম্বর পেতে হবে। বোর্ড পরীক্ষার নম্বর ও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের নম্বর যোগ করে চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করা হবে।
কোন ক্ষেত্রে অন্য বিষয় দিয়ে পাশে সুযোগ থাকছে?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী পড়ুয়ার নির্দিষ্ট কিছু কিছু বিষয় পাশ করতে না পারলে, সেই বিষয়টিতে বিকল্প বিষয়ে নম্বর দিয়ে নম্বরের ঘাটতি পূরণ করতে পারবে। অর্থাৎ পড়ুয়া যদি গণিত, বিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞানে পাশ না করতে পারলে আর অন্য কোন নির্বাচিত দক্ষতা ভিত্তিক বিষয় পাশ করলে, নির্দিষ্ট শর্তে সেই বিষয়টি অকৃতকার্য বিষয়ের পরিবর্তে গণ্য হতে পারে।
এবার জেনে নিন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পড়ুয়াদের জন্য কি নিয়ম রয়েছে:
বিশেষ চাহিদা সম্পূর্ণ পড়ুয়াদের অন্তত একটি বাধ্যতামূলক ভাষা নিয়ে বোর্ডের পরীক্ষা দিতে হবে। বাকি চারটে বোর্ড পরীক্ষার বিষয় নির্ধারিত তালিকা থেকে বেছে নেওয়া হবে। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে- গণিত, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, অন্য ভাষা, নির্দিষ্ট কয়েকটি সঙ্গীতের বিষয়, অঙ্কন, হোম সায়েন্স, ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় এবং সর্বাধিক দু’টি দক্ষতাভিত্তিক বিষয়।
তাছাড়া টেকনোলজি, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ও কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে নেওয়া যাবে না। তবে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয় নির্বাচনের আগে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের স্কুলের সঙ্গে আলোচনা করে সিবিএসই-র (CBSE) সম্পূর্ণ নির্দেশিকা দেখে নিতে হবে।












