বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কখনও বাজারে, কখনও রাস্তায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মানুষ। অনেক সময় আচমকাই বন্ধ হয়ে যায় হৃদস্পন্দন। সেই সময় পাশে থাকা কেউ যদি দ্রুত সঠিকভাবে সাহায্য করতে পারেন, তাহলে বেঁচে যেতে পারে একটি প্রাণ। এই কথা মাথায় রেখেই এবার বড় উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর। সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের (West Bengal Schools) নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের সিপিআর প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
West Bengal Schools : একদিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে পড়ুয়াদের
সম্প্রতি হালিশহরে এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে। সেখানকার বাসিন্দা নিবারণ সোম পেশায় ব্যাংককর্মী। রবিবার সকালে বাজার করতে গিয়ে হঠাৎ একটি সবজির দোকানের সামনে আলু-পেঁয়াজের স্তূপের উপর পড়ে যান তিনি। কোথাও হোঁচট খাননি, কেউ তাঁকে ধাক্কাও দেননি। তাঁকে ওই অবস্থায় দেখে ছুটে আসেন আশপাশের লোকজন। কাছে গিয়ে বোঝা যায়, তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস খুবই কমে গিয়েছে।

সেই সময় ভিড়ের মধ্যে থেকে এগিয়ে আসেন ২০-২২ বছরের এক তরুণ। তিনি সবাইকে ভিড় সরাতে বলেন এবং একজনকে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে বলেন। এরপর নিবারণবাবুর বুকে দুহাত দিয়ে চাপ দিতে থাকেন। মাঝে মুখে মুখ লাগিয়ে ফুঁও দেন। প্রায় এক মিনিটের মধ্যেই চোখ খোলেন ৫৫ বছরের নিবারণবাবু। এই পদ্ধতিকেই বলা হয় সিপিআর বা কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন। চিকিৎসকদের মতে, আচমকা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে দ্রুত এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে অনেক সময় মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। ভারতে প্রতিদিন কমবেশি ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় আচমকা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে। তাই এই প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই বেশি।
আরও পড়ুনঃ TET নিয়োগে নতুন করে আবেদনের দাবি খারিজ! বড় সিদ্ধান্ত কলকাতা হাই কোর্টের
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, এই বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজও অনেকটা এগিয়েছে। ঠিক হয়েছে, পড়ুয়াদের একদিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বর্তমানে রাজ্যের বাংলা মাধ্যমের স্কুলগুলিতে (Schools) নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ২৯ লক্ষ পড়ুয়া রয়েছে। সিবিএসই, আইসিএসই এবং আইএসসি বোর্ডের পড়ুয়াদের ধরলে সংখ্যাটা ৩২ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে।
স্বাস্থ্যদপ্তরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু। তাঁর মতে, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। তবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর পদ্ধতিটি ভুলে গেলে বা ভুলভাবে প্রয়োগ করলে বিপদ হতে পারে।
সিনিয়র মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জ্যোতির্ময় পাল জানিয়েছেন, হার্ট অ্যাটাক, হৃদস্পন্দনের ছন্দে সমস্যা বা হার্ট ব্লকের কারণে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে সিপিআর কাজে আসতে পারে। জলে ডুবে যাওয়া বা অন্য কোনও কারণে শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ কিংবা খুব কমে গেলেও এই পদ্ধতি সাহায্য করতে পারে। এছাড়া দুর্ঘটনা, গুরুতর আঘাত বা হঠাৎ মানসিক ধাক্কায় কেউ জ্ঞান হারালেও এটি কাজে লাগতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, সিপিআর দেওয়ার সময় মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার অসুস্থ ব্যক্তির বুকে চাপ দিতে ও ছাড়তে হয়। প্রতি ৩০ বার চাপ দেওয়ার পর মুখ দিয়ে দুবার ফুঁ দিতে হয়। চিকিৎসকের কাছে পৌঁছনো পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হয় (Schools)।












