কলেজের প্রজেক্ট থেকে কোটির ব্যবসা! কোরিয়ান খাবার বিক্রি করে তাক লাগালেন IIM-এর তিন বন্ধু

Published on:

Published on:

Success Story of Gimi Michi will surprise you.

বাংলাহান্ট ডেস্ক: একটা কলেজের প্রজেক্ট থেকেই যে কয়েক কোটি টাকার একটি সফল (Success Story) ব্যবসার ভিত তৈরি হতে পারে, তারই উদাহরণ নিশাঙ্ক গোয়েল, অখিল কুমার এবং বোধি রাঠোরের উদ্যোগ। আইআইএম আহমেদাবাদের এই তিন প্রাক্তন ছাত্র ২০২৪ সালে শুরু করেছিলেন তাঁদের ফুড স্টার্টআপ ‘গিমি মিচি’ (Gimi Michi)। গুরুগ্রামভিত্তিক (Gurgaon) এই সংস্থা অল্প সময়ের মধ্যেই ভারতীয় বাজারে কোরিয়ান খাবারের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের পরিচিতি তৈরি করেছে। সাশ্রয়ী দামে কোরিয়ান স্বাদের রামেন, কাপ নুডলস এবং সসেজ ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য। সেই পরিকল্পনাতেই এসেছে সাফল্য। মাত্র দুই বছরের মধ্যে সংস্থাটির মাসিক আয় প্রায় ১.৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তবে এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে বাজারের চাহিদা বোঝা, নতুন ধরনের পণ্য তৈরি এবং প্রচারের অভিনব কৌশল।

‘গিমি মিচি’-র অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

তিন বন্ধুর এই উদ্যোগের সূত্রপাত ২০২৪ সালে, আইআইএম আহমেদাবাদে তাঁদের এমবিএ পাঠক্রমের তৃতীয় টার্মে। প্রথমে এটি ছিল একটি কলেজের প্রজেক্ট। সেই সময় তাঁরা লক্ষ্য করেন, ভারতের বিভিন্ন শহরে কোরিয়ান সংস্কৃতি, বিশেষ করে কোরিয়ান খাবারের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। সেই প্রবণতা থেকেই খাবারের ব্যবসায় নামার কথা ভাবেন তাঁরা। প্রযুক্তি এবং পণ্য উন্নয়নের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা থাকলেও, তিন বন্ধু বেছে নেন এফএমসিজি ক্ষেত্রকে। নিজেদের সঞ্চয়ের পাশাপাশি আইআইএম ভেঞ্চারসের সিড গ্রান্টের সাহায্যে তাঁরা ব্যবসার প্রাথমিক পরিকাঠামো তৈরি করেন। তাঁদের বিশ্বাস ছিল, ভারতীয় বাজারে কোরিয়ান খাবারের চাহিদা থাকলেও ক্রেতাদের সামনে সাশ্রয়ী দামে ভালো বিকল্পের অভাব রয়েছে।

আরও পড়ুন: স্কুলছাত্রীকে করাত দিয়ে হামলা, পালানোর চেষ্টা করতেই অভিযুক্তকে লক্ষ্য করে গুলি পুলিশের

বাজার খতিয়ে দেখতে গিয়ে সেই ধারণারই প্রমাণ পান নিশাঙ্ক, অখিল ও বোধি। তাঁদের নজরে আসে, ভারতে পাওয়া কোরিয়ান রামেনের অধিকাংশই হয় আমদানি করা, যার দাম প্রতি প্যাকেট প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, নয়তো তুলনায় সস্তা স্থানীয় পণ্য, কিন্তু সেগুলির স্বাদ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না। এই দুইয়ের মাঝখানে জায়গা তৈরি করাই হয়ে ওঠে তাঁদের ব্যবসার পরিকল্পনা। নিজেদের উদ্যোগে রেসিপি তৈরি করে তাঁরা বাজারে আনেন স্যুপ-ভিত্তিক রামেন, যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজিও রাখা হয়। কোরিয়ান খাবারের পরিচিত কিমচি ও ঝাল স্বাদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয় একাধিক ফ্লেভার। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসে ‘গিমি মিচি’র এই পণ্যগুলি। খাঁটি স্বাদের সঙ্গে তুলনামূলক কম দাম রাখার বিষয়টিই ছিল তাঁদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

শুধু পণ্য তৈরি করেই থেমে থাকেননি তিন উদ্যোক্তা। ক্রেতাদের মধ্যে পরিচিতি বাড়াতে তাঁরা বেছে নেন এক অভিনব প্রচারপদ্ধতি। বিভিন্ন কলেজে গিয়ে বিনামূল্যে রামেন বিতরণের আয়োজন করেন তাঁরা, যার নাম দেওয়া হয় ‘রামেন ভান্ডারা’। এই উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যে ব্র্যান্ডটি অনেকের নজরে আসে। রামেনের পাশাপাশি ভারতীয় রান্নাঘরেও নিজেদের পণ্যের জায়গা তৈরি করতে কিমচি পেস্ট, গোচুজাং পেস্ট এবং চিলি অয়েল বাজারে আনে সংস্থাটি। বর্তমানে তাদের মোট বিক্রির প্রায় ৬০ শতাংশ আসে জেপ্টো ও ইন্সটামার্টের মতো কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকে। দ্রুত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার এই ব্যবস্থা সংস্থার ব্যবসা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

Success Story of Gimi Michi will surprise you.

আরও পড়ুন: এক বাসে চেপে মায়াপুর থেকে তারাপীঠ! SBSTC-এর নতুন বাসের টাইমটেবিল ও ভাড়া জানুন

ব্যবসার এই অগ্রগতির মধ্যে ২০২৬ সালের জুন মাসে নতুন করে আর্থিক সহায়তা পায় ‘গিমি মিচি’। ইন্ডিয়া কোশেন্ট, দেবভিসি এবং টাইটান ক্যাপিটালের নেতৃত্বে সংস্থাটি প্রায় ৮৩ মিলিয়ন রুপি, অর্থাৎ ৮.৩ কোটি টাকার সিড ফান্ডিং সংগ্রহ করে। এই অর্থ সংস্থার ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং বাজারে উপস্থিতি আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে। এবার তাদের পরবর্তী লক্ষ্য কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্লিঙ্কিটে পণ্য উপলব্ধ করা। এক সময়ের ক্লাসরুম প্রজেক্ট থেকে মাসে ১.৭ কোটি টাকার ব্যবসায় পৌঁছনো—তিন বন্ধুর এই যাত্রা নতুন উদ্যোগপতিদের কাছে নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার। তবে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি জায়গা ধরে রাখতে হলে পণ্যের মান, স্বাদ এবং সাশ্রয়ী দামের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হবে তাঁদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ (Success Story)।