বাংলা হান্ট ডেস্ক : উত্তরবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়নে এবার একাধিক ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পাহাড়ি এলাকার চিকিৎসা পরিষেবার ঘাটতি মেটানো থেকে শুরু করে পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধা বৃদ্ধি—বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে খেলাধুলার পরিকাঠামো এবং ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থানগুলির উন্নয়নেও অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বিরাট পরিকল্পনা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে আয়োজিত পর্যালোচনা বৈঠকের পর প্রকল্পগুলির কথা প্রকাশ্যে আনেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ তথা বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র রাজু বিস্তা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েই স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পর্যটন এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে কালিম্পংয়ে মেডিক্যাল কলেজ গড়ার পরিকল্পনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর ২০২৭ তারিখে মুখ্যমন্ত্রী এই প্রতিষ্ঠানের শিলান্যাস করবেন বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শুধু কালিম্পং নয়, দার্জিলিং পাহাড় ও আশপাশের শহরগুলির সরকারি হাসপাতালগুলিকেও নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং, মিরিক এবং শিলিগুড়ির হাসপাতালগুলিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পরিকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী এলাকায় ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন : কেন্দ্রীয় হারে দিতে হবে DA, সপ্তম বেতন কমিশনে স্মারকলিপি জমা সরকারি কর্মী সংগঠনের
পাহাড়ের যাতায়াত ব্যবস্থায় বিকল্প ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা হয়েছে। কার্শিয়াং ও দার্জিলিংয়ের মধ্যে প্রায় ২১ কিলোমিটার পথ জুড়ে রোপওয়ে তৈরির অনুমোদন মিলেছে। এই ব্যবস্থা চালু হলে সড়কপথের উপর নির্ভরতা কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে পর্যটনের মরশুমে পাহাড়ি রাস্তায় যানবাহনের চাপ সামলানো এবং স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ করার ক্ষেত্রে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ক্রীড়াক্ষেত্রেও নতুন পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। লেবং গ্রাউন্ডকে বর্তমান চাহিদার উপযোগী করে একটি আধুনিক স্টেডিয়ামে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের মহাকাল মন্দির এলাকার উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মন্দির চত্বরের রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিও এই প্রকল্পের আওতায় রাখা হয়েছে। পর্যটকদের থাকার সুবিধা আরও উন্নত করতে রাজ্যের অধীনে থাকা পর্যটন লজগুলির সংস্কার ও আধুনিকীকরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগগুলি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের একাধিক ক্ষেত্র উপকৃত হবে। উত্তরবঙ্গের বাসিন্দারা এখন প্রতিশ্রুত উদ্যোগগুলির বাস্তব রূপ দেখার অপেক্ষায়।












