বাংলার কলেজে এবার বৈদিক গণিত! রাষ্ট্রবিজ্ঞানে চাণক্য নীতি, পড়াশোনায় বড় বদল আনছে রাজ্য

Published on:

Published on:

West Bengal Higher study syllabus New Changes

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বাংলার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনায় এবার নতুন কিছু বিষয় যুক্ত হতে চলেছে (Higher Study Syllabus)। অঙ্কের ক্লাসে পড়ানো হতে পারে বৈদিক যুগের গণিত। অন্যদিকে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সিলেবাসে জায়গা পেতে পারে চাণক্য নীতি। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকারের তৈরি টাস্ক ফোর্স। জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ মেনেই এই পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তাহলে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনায় ঠিক কী কী বদল আসতে চলেছে? আসুন জেনে নেওয়া যাক।

সিলেবাসে (Higher Study Syllabus) কী কী নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে?

রাজ্যের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনায় প্রাচীন ভারতের কিছু বিষয়ও যুক্ত করা হবে (Higher Study Syllabus)। এর মধ্যে থাকছে—

1. বৈদিক গণিত: অঙ্কের সিলেবাসে প্রাচীন ভারতের গণিতশাস্ত্র যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বৈদিক যুগের গণিতও পড়ানো হবে।

2. চাণক্য নীতি: রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পড়াশোনায় চাণক্য নীতি যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে।

3. প্রাচীন শাস্ত্র: বৈদিক নীতি ও শাস্ত্রের এমন কিছু বিষয় পড়ানো হবে, যেগুলি এখনকার সময়ের সঙ্গেও মানানসই।

WBCHSE SIR issu has leave cancellation of teachers-educational staff for hs exam

এই কাজের জন্য রাজ্য সরকার একটি টাস্ক ফোর্স তৈরি করেছে। UGC-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জগদীশ কুমার এই টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এর সদস্য রয়েছেন কল্যাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কল্লোল পাল। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেম’ নামে একটি ব্যবস্থা রয়েছে। IIT-গুলিতে পড়ুয়াদের এই বিষয়ে জানানো হচ্ছে। এবার বাংলার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও এই ধরনের বিষয় পড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভের ধাঁচে সাজবে গঙ্গাপাড়! ডায়মন্ড হারবার থেকে এসপ্লানেড পর্যন্ত মেট্রোর পরিকল্পনা অগ্নিমিত্রার

টাস্ক ফোর্সের সদস্য তথা কল্যাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কল্লোল পাল জানিয়েছেন, রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির জন্য একটি মডেল ও গাইডলাইন তৈরি করা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ মেনেই এই কাজ চলছে। বর্তমান সময়ের সঙ্গে মানানসই বৈদিক ও প্রাচীন শাস্ত্রের বিষয়গুলি সিলেবাসে (Higher study syllabus) রাখা হবে।

এই পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তী। তাঁর মতে, আধুনিক বিজ্ঞান ও ইউরোপীয় বিজ্ঞানের পাশাপাশি প্রাচীন বিজ্ঞানের বিষয়ও পড়ানো যেতে পারে। এতে দেশের পুরনো ঐতিহ্য সম্পর্কে পড়ুয়ারা জানতে পারবেন।

তবে এই বিষয়ে কিছুটা অন্য মত জানিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নন্দিনী মুখোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, এই পদ্ধতিতে সমস্যা নেই। কিন্তু এখন আমরা একবিংশ শতাব্দীতে রয়েছি। প্রাচীন গণিতশাস্ত্রের সময় থেকে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে বিজ্ঞান ও গণিত। তাই পুরনো বিষয়গুলি ইতিহাস হিসেবে পড়ানো যেতে পারে। তবে এখনকার আধুনিক গণিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি (Higher study syllabus)।